ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের আসন্ন শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানোর এক বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএনপি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউআইওএন-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে যেখানে তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে দুদিন আগে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর এই আমন্ত্রণ মূলত দুই দেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা কমিয়ে আনার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।
হুমায়ুন কবির সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করা তারেক রহমানের পররাষ্ট্রনীতির একটি অন্যতম স্তম্ভ। তিনি মনে করেন এই অঞ্চলকে একটি প্রভাবশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনাটি মূলত একটি সুষম এবং সদিচ্ছার বার্তা হিসেবে দেখছে বিএনপি।
যদিও শপথের সময় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত তবুও এই আমন্ত্রণের মাধ্যমে বিএনপি তাদের ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করতে চায়। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো যে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে এক ধরনের শীতল সম্পর্ক বিরাজ করছিল। এই পরিস্থিতিতে নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলাতে সহায়ক হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। হুমায়ুন কবির আরও উল্লেখ করেন যে তারা সার্ক ও বিমসটেকের মতো আঞ্চলিক জোটগুলোকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করতে আগ্রহী।
বিএনপি এখন একটি স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে চায় যেখানে প্রতিটি প্রতিবেশী দেশের সাথে সমতা ও সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় থাকবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নতুন সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এই ধরনের সাহসী কূটনৈতিক পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। ভারতের গণমাধ্যমগুলো বিএনপির এই বিজয়কে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বড় পরিবর্তন হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এখন দেখার বিষয় হলো এই আমন্ত্রণে দিল্লির পক্ষ থেকে কী ধরনের সাড়া আসে। ভারতের সাথে অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানেও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায় বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে। সামগ্রিকভাবে এই আমন্ত্রণটি একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে যেখানে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে পুরো দক্ষিণ এশিয়া একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন