ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ১১:০১ পিএম
সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া হলে সেটিকে চাঁদা হিসেবে গণ্য না করার বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের দেওয়া এক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, নবগঠিত সরকারের সেতুমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের মাধ্যমে কি চাঁদাবাজিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধতা বা জাতীয়করণ করা হলো।বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মন্তব্য করেছিলেন যে, পরিবহনে মালিক ও শ্রমিক সমিতি তাদের কল্যাণে যে অর্থ সংগ্রহ করে, সেটিকে তিনি প্রথাগত চাঁদা হিসেবে দেখেন না।
মন্ত্রীর মতে, চাঁদা কেবল সেটিই যা কেউ দিতে চায় না বা যাকে দিতে বাধ্য করা হয়। তার এই মন্তব্যটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
মূলত মন্ত্রীর সেই ব্যাখ্যার জবাবেই ডা. শফিকুর রহমান তার ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির সরকারের দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি লিখেন যে, যদি প্রকাশ্য অর্থ আদায়কে চাঁদা হিসেবে স্বীকার না করা হয়, তবে কীভাবে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা সম্ভব হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে সাধারণ মানুষকে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং এই লড়াইয়ে জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সচিবালয়ের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী আরও বলেছিলেন যে, সড়কে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অনেকটা অলিখিত বিধির মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি সংশ্লিষ্টদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। তবে বিরোধীদলীয় নেতা মনে করেন, এমন ব্যাখ্যা চাঁদাবাজিকে উৎসাহিত করবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে। দুই নেতার এমন বিপরীতমুখী অবস্থানে দেশের পরিবহন খাতে অর্থ আদায়ের বিষয়টি এখন নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন