বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের তালিকায় বেরোবির ড. ফেরদৌস

নিজস্ব প্রতিবেদক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের তালিকায় বেরোবির ড. ফেরদৌস

ছবি: দিনাজপুর টিভি

বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের তালিকায় টানা তৃতীয়বারের মতো স্থান করে নিয়ে অনন্য গৌরব অর্জন করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের (Elsevier) যৌথ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নে বিশ্বের শীর্ষ দুই শতাংশ গবেষকের তালিকায় এই গৌরবময় অবস্থান অর্জন করেন তিনি।

২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে ধারাবাহিকভাবে এই বিরল স্বীকৃতি লাভ করলেন ড. ফেরদৌস।

সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকা অনুসারে, পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান শাখায় তাঁর বৈশ্বিক অবস্থান ২৮ হাজার ২৫০তম। এছাড়া ফলিত পদার্থবিজ্ঞান উপশাখায় তিনি সারা বিশ্বে ৫১৫তম স্থান অধিকার করেছেন। আন্তর্জাতিক গবেষক প্রোফাইল অনুযায়ী তাঁর এইচ-ইনডেক্স ৩০ এবং এইচএম-ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে ১১-তে।

ড. মো. ফেরদৌস রহমান দীর্ঘ সময় ধরে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক সৌরশক্তি প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের মৌলিক গবেষণা পরিচালনা করছেন। আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর এই গৌরবময় সাফল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে।

এই আন্তর্জাতিক অর্জনে অনুভূতি প্রকাশ করে অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা বিশ্বের শীর্ষ দুই শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান লাভ সম্ভব হয়েছে। এই স্বীকৃতি তাঁর জন্য অত্যন্ত আনন্দের, গর্বের এবং একই সাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বড় দায়িত্বের বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই সাফল্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এর পেছনে পরিবার, শিক্ষক, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট শুভাকাঙ্ক্ষীদের অবিরাম সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা জড়িয়ে আছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো উন্নত সৌরশক্তি প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে অর্থবহ ভূমিকা রাখা। কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিই গবেষণার শেষ নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ কাজের নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। তরুণ গবেষকদের সঙ্গে নিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী গবেষণাকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সাথে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের সমৃদ্ধিতে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন এই কৃতী গবেষক।