অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো ধরনের আইনি বা নীতিগত বাধা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত এক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যতদিন পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হচ্ছে, ততদিন শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই। বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের জাতীয়করণের দাবির প্রতি পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষকদের সামাজিক পদমর্যাদা ও সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ আজ হোক বা কাল হোক বাস্তবায়ন হবেই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে যতবার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, অবসর সুবিধা এবং সামাজিক মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছে, তা শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই হয়েছে। সেই নীতিগত ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেই শিক্ষক-কর্মচারীদের এই ঐতিহাসিক জাতীয়করণের দাবি বাস্তব রূপ পেতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের একটি আধুনিক আর্থিক রূপরেখা তুলে ধরেন মীর শাহে আলম।
তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে, যাতে ভবনের ছাদ কাজে লাগিয়ে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্যানেল বসানো যায়। এই পদক্ষেপের ফলে প্রতিটি বিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত হবে। একই সাথে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এবং অতিরিক্ত সময়ে উৎপাদিত বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডে সরবরাহ করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান মাসে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলে শিক্ষা বাজেট তিন গুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
শিক্ষক সমাজের সার্বজনীন অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকই একমাত্র পেশা যা পৃথিবীর অন্য সমস্ত পেশার সৃষ্টি করে। শিক্ষকরাই সমাজের মূল চালিকাশক্তি এবং গণতন্ত্রের অগ্রণী বার্তাবাহক। এ কারণে সমাজ ও রাষ্ট্রের যেকোনো স্তর থেকে শিক্ষকদের সম্মান ক্ষুণ্ণ করার যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের বয়স মাত্র সাত মাস।
দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকার শিক্ষা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে নিরলস পরিশ্রম করছে। সরকারের নানা আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরে যাওয়া প্রায় এক লাখ শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে ন্যায্য অবসরভাতা তুলে দিতে ইতিমধ্যে দুই হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
জাতীয়করণের আর্থিক দিক তুলে ধরে শিক্ষকদের সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, জাতীয়করণের এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে বছরে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার রাজস্ব প্রয়োজন। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে তিনি শিক্ষকদের একটি সুশৃঙ্খল ও ব্যাপক পরিসরের জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করে মানবিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দাবির যৌক্তিক বার্তা পৌঁছানোর আহ্বান জানান। তিনি আশ্বস্ত করেন যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শিক্ষকদের এই ন্যায়সঙ্গত দাবির গুরুত্ব অত্যন্ত আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করবে।
সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেনসহ কেন্দ্রীয় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন