বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,
নিরাপদ পানি

দেশে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে দুই দশমিক এক বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

দেশে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে দুই দশমিক এক বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা

দেশের আঠারো কোটি মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রায় দুই দশমিক এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে।

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ইউনিসেফের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফের সঙ্গে কথা বলেছি একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপরে। সেটা হচ্ছে কীভাবে বাংলাদেশের আঠারো কোটি মানুষের কাছে আমরা নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে পারি।

পানির অপর নাম জীবন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। কিন্তু এই পানি যদি দূষিত হয়, যদি জীবাণুপূর্ণ হয়, তাহলে কিন্তু এই পানি মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠতে পারে। কাজেই আজকের দুনিয়াতে একদিকে পানি যেমন মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য, অন্যদিকে এই পানি আবার মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে যাতে বাংলাদেশে আঠারো কোটি মানুষের কাছে আমরা নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে পারি। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করেছি।

নদীগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। আমাদের যে উজান, নদীর উজানগুলোতে পানি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। যে কারণে পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে একদিকে যেমন আমাদের উত্তরের জেলাগুলোতে মরুভূমিজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। আবার এর দ্বিতীয় একটি প্রভাব রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলে। কারণ সমুদ্রে যে আমাদের নদীবিধৌত বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পানিগুলো বঙ্গোপসাগরে যায়, সেই পানির পরিমাণ যদি কমে যায়, তার ফলে সমুদ্রের পানির যে লবণাক্ততা, সেই লবণাক্ততা তখন ওপরের দিকে উঠতে থাকে। এবং যে কারণে আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে বিগত কয়েক দশক ধরে পানি প্রত্যাহারের কারণে উজানে, সেখানে পানীয় জলের বিরাট সমস্যা দেখা দিয়েছে।

সব বিষয়গুলো বিবেচনা করে মানুষের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কীভাবে জাতিসংঘের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করা যায় এবং এর অর্থায়ন কীভাবে হবে, তার একটি বিশেষ দিক আজকের সভায় আলোচনা করা হয়েছে। সভায় বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি, ওয়াটার এইড-এর প্রতিনিধি এবং ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

আজকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি প্রধান কাজ হচ্ছে মানুষের জীবন রক্ষাকারী নিরাপদ পানি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

মন্ত্রী আরও বলেন, আজকে আমরা সম্মিলিতভাবে যে টাকার প্রকল্প নিয়ে আলাপ করেছি, তা শুধু ইউনিসেফ নয়, এখানে বিভিন্ন সংস্থাগুলো রয়েছে, সবাইকে মিলিয়ে যোগ করলে প্রায় এটি দুই দশমিক এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়াবে। যার পরিমাণ প্রায় পঁচিশ হাজার কোটি টাকার মতো।