রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ওসির সামনেই সেকেন্ড অফিসারকে ‘দুর্নীতিবাজ’ বললেন হাসনাত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

ওসির সামনেই সেকেন্ড অফিসারকে ‘দুর্নীতিবাজ’ বললেন হাসনাত

বক্তব্য রাখছেন হাসনাত

কুমিল্লার দেবিদ্বারে আয়োজিত এক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই স্থানীয় থানার অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও দালাল সিন্ডিকেট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের এই মুখ্য সংগঠক সরাসরি থানার সেকেন্ড অফিসারকে পুরোপুরি দুর্নীতিবাজ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। 

একই সঙ্গে তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দালালচক্র থেকে থানা মুক্ত করার কড়া নির্দেশ প্রদান করেন। আজ বুধবার দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তোলেন।

সভার প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল দেবিদ্বার থানার কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। উপস্থিত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের সামনেই হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন যে, ওসি নিজে আন্তরিক থাকলেও তার অধীনস্থ কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে মোটেও আন্তরিক নন। 

বিশেষ করে থানার সেকেন্ড অফিসার আব্দুল মতিন এবং এসআই ভবতোষের বিরুদ্ধে তিনি ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন যে, টাকা ছাড়া এই কর্মকর্তাদের কোনো ফাইল বা কার্যক্রম সচল হয় না। এমনকি পুলিশ অভিযানে যাওয়ার আগেই অপরাধীদের তথ্য ফাঁস করে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন যে, থানা বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নেই বরং বাহিরের একজন ব্যক্তির প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে। 

হেলাল নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, ওই ব্যক্তি কোনো সরকারি পদে না থেকেও থানার কোন মামলা রুজু হবে বা কোনটি এজাহারভুক্ত হবে তা নির্ধারণ করে দেন। পুলিশের সদস্য না হয়েও একজন সাধারণ ব্যক্তি কীভাবে থানার দাপ্তরিক ও আইনি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তিনি এই মন্তব্য করছেন।জনসাধারণের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন যে, সাধারণ গ্রামবাসী পুলিশের কাছে যেতে ভয় পায় কারণ সেখানে এক ধরনের অচাকরিজীবী দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। 

ওসির কাছে পৌঁছানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এই সিন্ডিকেট বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি ওসিকে অনুরোধ করেন যেন সাধারণ মানুষের সাথে পুলিশের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয় এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যেন আইনি সহায়তা নিতে না হয়। তিনি আরও বলেন যে, বিগত এক বছর ধরে তিনি সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে এই দালালচক্রের প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন।

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সদস্যের এমন কঠোর ও সোজাসাপ্টা বক্তব্যের পর সভায় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সভা শেষে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে এমন সাহসী বক্তব্যের প্রশংসা করেন।