রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও ওয়াকআউট নিয়ে নাহিদকে হামিমের প্রশ্ন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১২, ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও ওয়াকআউট নিয়ে নাহিদকে হামিমের প্রশ্ন

বিতর্কিত সংসদ অধিবেশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের ভাষণকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের ওয়াকআউট ও প্রতিবাদের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলামের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। 

সেখানে তিনি বর্তমান রাষ্ট্রপতির বৈধতা এবং উপদেষ্টাদের শপথ গ্রহণের বিষয়টি সামনে এনে নাহিদ ইসলামের বর্তমান অবস্থানের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

শেখ তানভীর বারী হামিম তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর যখন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, তখন বঙ্গভবনের সেই শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনই নাহিদ ইসলামসহ সকল উপদেষ্টাকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছিলেন। 

হামিমের প্রশ্ন, সেই সময়ে যদি রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেওয়া জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে গাদ্দারি না হয়ে থাকে, তবে আজ সংসদে তার ভাষণের সময় ওয়াকআউট করা কেন জুলাইয়ের অভিপ্রায়ের সঙ্গে গাদ্দারি হিসেবে গণ্য হবে না? তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অবস্থান মেনে নিয়ে সরকার গঠনের পর এখন সংসদে তার বিরোধিতা করা রাজনৈতিক স্ববিরোধিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।এর আগে বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ যখন রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান, তখন জামায়াতে ইসলামী এবং ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা রাষ্ট্রপতিকে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে আখ্যা দিয়ে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। বিরোধী দলগুলোর এই অনড় অবস্থানের কারণেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে মেরুকরণ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের স্ট্যাটাস এবং হামিমের এই পাল্টা প্রশ্ন সংসদীয় রাজনীতির বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

হামিম তার বক্তব্যে আরও বলেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্যকে সামনে রেখে সংসদকে কার্যকর করা জরুরি। কিন্তু প্রথম অধিবেশনেই ওয়াকআউটের মতো কর্মসূচি সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক কোনো বার্তা দেয় না। তিনি মনে করেন, যারা রাষ্ট্রপতির অধীনে শপথ নিয়েছেন এবং তার দেওয়া অধ্যাদেশের সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন, তাদের পক্ষ থেকে এমন প্রতিবাদ রাজনৈতিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বর্তমানে এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক বিশ্লেষণ চলছে।