সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

অনভিজ্ঞতায় ভুগছে জামায়াতে ইসলামী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম

অনভিজ্ঞতায় ভুগছে জামায়াতে ইসলামী

রাজনৈতিক সংকটে জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসলেও সংসদীয় ও সাংগঠনিক নানা ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর অভিজ্ঞতার ঘাটতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে থেকে শুরু করে সংসদীয় কার্যক্রমের শুরুর দিন পর্যন্ত দলটির বিভিন্ন স্তরের নীতিনির্ধারণী অসংগতি ও অদক্ষতা সচেতন ভোটারদের নজরে এসেছে। 

বিশেষ করে নির্বাচনি প্রচারকালে নারীদের কর্মঘণ্টা সংক্রান্ত প্রস্তাবটি বাস্তবের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষকে। মাতৃত্বকালীন সময়ে কর্মঘণ্টা কমিয়ে পাঁচ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার প্রস্তাবটিকে অনেক নারী ভোটার ইতিবাচক মনে করলেও নির্বাচনি ডামাডোলে এটি পেশাদারিত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করতে না পারাকে দলের অদক্ষতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রেও দলটির মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে প্রশিক্ষণের অভাব ছিল এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ভোট গণনার সময় জামায়াত ও এনসিপির এজেন্টদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

এছাড়া নির্বাচনের আগে ও পরে কয়েকজন নেতার বেফাঁস বক্তব্য দলটিকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে। বিশেষ করে ডাকসু এবং নারীনীতি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের দায়ে কয়েকজন নেতাকে শোকজ ও দল থেকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য হয়েছে জামায়াত নেতৃত্ব। সংসদীয় বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে গিয়ে এমন অদক্ষতা দলটির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে জামায়াত আমিরের সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে কেন্দ্র করে। 

বিএনপি সরকার গঠনের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তাকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দেওয়ার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দেন ডা. শফিকুর রহমান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। দলের পক্ষ থেকে পরে জানানো হয় যে আমিরের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে চিঠিতে অতিরিক্ত বিষয় যুক্ত করা হয়েছিল এবং এর জেরে ওই উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে আমিরের অগোচরে তার প্যাড ব্যবহার করে এমন স্পর্শকাতর চিঠি পাঠানোর ঘটনাটি দলীয় ব্যবস্থাপনার চরম দুর্বলতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পরবর্তীতে আরেক বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীকে কনসালট্যান্ট নিয়োগের বিষয়টিও দলের ভেতরে-বাইরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার পদের প্রশ্নেও জামায়াত নেতাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মতামত দেখা গেছে। শুরুতে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের অপেক্ষায় থাকার কথা বললেও পরে একে অনুকম্পা হিসেবে প্রত্যাখ্যান এবং শেষ পর্যন্ত সংস্কার প্যাকেজের শর্ত জুড়ে দেওয়ার বিষয়টি সংসদীয় অভিজ্ঞতার অভাবকেই ইঙ্গিত করে। যদিও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব সীমাবদ্ধতার জন্য দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও নেতাদের ওপর দমন-পীড়নকে দায়ী করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে প্রতিকূল পরিবেশের কারণে স্বাভাবিক রাজনৈতিক বিকাশ ব্যাহত হয়েছে। তবে ৬৮ জন সদস্য নিয়ে সংসদে যাওয়ার পর এমন অভ্যন্তরীণ সংকট ও অদক্ষতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে সংসদীয় কার্যক্রমে দলটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।