মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্ণ হলেও সাধারণ মানুষ এখনো এর প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র্যালি পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে শুরু হওয়া বিশাল এই মিছিলটি পল্টন, প্রেসক্লাব ও মৎস্যভবন মোড় হয়ে শাহবাগে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সিবগাতুল্লাহ তার বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশের প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের প্রস্তাবিত সংস্কারের পক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই বিশাল গণরায়কে উপেক্ষা করে ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২০টি অধ্যাদেশ পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবর্তে সরকার গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে জনগণের ম্যান্ডেটকে এভাবে অবজ্ঞা করার পরিণতি শুভ হবে না।মানবাধিকার ও গুমের প্রসঙ্গ টেনে শিবির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বর্তমানে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলো বাতিলের চক্রান্ত চলছে যা সরাসরি শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার শামিল।
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, অতীতে গুম হওয়া রাজনৈতিক নেতাদের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে বারবার যে শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় এসেছে তারা সাধারণ মানুষের স্বাধীনতার টুঁটি চেপে ধরার চেষ্টা করেছে।শিক্ষা খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরেও দেশে একটি উন্নত, মানবিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।
তরুণ প্রজন্ম এখনো তাদের প্রাপ্য শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে। দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মানুষ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহীসহ কার্যকরী পরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী র্যালিতে অংশ নেন। শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া এই সমাবেশ শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন