রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

জামায়াতকর্মী বিবি সাওদা গ্রেপ্তার জামায়াত আমিরের তীব্র প্রতিক্রিয়া

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

জামায়াতকর্মী বিবি সাওদা গ্রেপ্তার জামায়াত আমিরের তীব্র প্রতিক্রিয়া

গ্রেপ্তার জামায়াতকর্মী বিবি সাওদা

ভোলার জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘটনাকে নব্য ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেন। ভোলার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নিজ প্রতিক্রিয়ায় ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, জামায়াত কর্মী সাওদা সুমির সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিকৃষ্ট। তাঁর ভাষায়, ফ্যাসিবাদীরা সব সময় নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে জনগণের কণ্ঠ রোধ করতে চায়। 

কিন্তু ইতিহাস বলে, শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদীদের কণ্ঠই স্তব্ধ হয়ে যায়। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে, যারা অন্তরে ফ্যাসিবাদ লালন করে, তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেবে কি না তা তাঁর জানা নেই। পুরো বিষয়টি নিয়ে তিনি চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন।

ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। এর আগে সোমবার মধ্যরাতে এই গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদেক কায়েম। তিনি এই গ্রেপ্তারকে পুরনো ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সাদেক কায়েম তাঁর স্ট্যাটাসে বলেন, তিন বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর মাকে অপরাধ ছাড়াই মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া কেবল অমানবিক নয়, এটি ভিন্নমত দমনের একটি সুপ্ত মানসিকতা। তিনি অবিলম্বে বিবি সাওদার মুক্তি এবং সব ধরনের রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাত ১১টার দিকে ভোলার নিজ বাসা থেকে বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি জামায়াতে ইসলামীর ভোলা পৌরসভার একজন সক্রিয় নারী কর্মী হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা জানান, তাঁর বাড়িতে তিন বছরের একটি ছোট শিশু রয়েছে যে কথা বলতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যরাতে তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্থানীয়ভাবেও বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে এমন গ্রেপ্তার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে। বিশেষ করে যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জনআকাঙ্ক্ষা ছিল হয়রানি মুক্ত রাজনীতির, সেখানে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে খোদ সরকার সমর্থকদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন উঠছে। এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে এই গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ বা কোনো মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে জামায়াত ও ছাত্রনেতাদের এই কড়া প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।