এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিবাদের মুখে অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদা। মঙ্গলবার তিনি কারাগার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পান বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে সাওদা সুমির মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাত ১১টার দিকে ভোলার নিজ বাসভবন থেকে জামায়াতের ভোলা পৌরসভার নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরদিন সোমবার তাঁকে দণ্ডবিধির ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মূলত ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা এবং বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। তবে একজন নারী কর্মীকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাদিকসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। আবু সাদিক তাঁর এক বার্তায় উল্লেখ করেন যে, তিন বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর মাকে কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধ ছাড়াই মধ্যরাতে তুলে নেওয়া অত্যন্ত অমানবিক। তিনি একে ভিন্নমত দমনে বর্তমান প্রশাসনের এক সুপ্ত মনোবাসনার প্রতিফলন বলে দাবি করেন। তাঁর মতে, যারা একসময় নিজেরাই নিপীড়নের শিকার ছিলেন, তাদের শাসনামলে এমন গ্রেপ্তার কোনোভাবেই কাম্য নয়।
একই ইস্যুতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন যে, সামান্য লেখনীর কারণেই ক্ষমতার মসনদ কেঁপে উঠেছে। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতারা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, বর্তমান সরকার কি পুরনো স্বৈরাচারী পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চাইছে কি না। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুলও এই গ্রেপ্তারের কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছিলেন যে, নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা ফ্যাসিবাদের নামান্তর।
অবশেষে মঙ্গলবার বিকেলের দিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিবি সাওদা সুমি কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। তাঁর মুক্তির সংবাদে দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভোলার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাওদা সুমি তাঁর তিন বছরের অসুস্থ সন্তানের কাছে ফিরে যাওয়ায় একটি মানবিক সংকটের অবসান হলো। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামান্য ফেসবুক পোস্টের জন্য এমন গ্রেপ্তারের ঘটনা ভবিষ্যতে সরকারের ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন