এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১১:০৫ এএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদাকে অবিলম্বে মুক্তি না দিলে ‘স্বেচ্ছায় কারাবরণ’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া মন্তব্য করেন।
তাঁর এই বক্তব্য কেন্দ্র করে আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।শাহরিয়ার কবির তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন যে, সাওদাকে ভোরের আলো ফোটার আগেই মুক্তি দিতে হবে।
অন্যথায় তিনি ইনশাআল্লাহ স্বেচ্ছায় কারাবরণ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেবেন। মূলত ভোলার এই জামায়াতকর্মীকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া এবং কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেই তিনি এই চরম পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। এই আইনজীবীর মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এমন গ্রেপ্তার চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত রোববার রাত ১১টার দিকে ভোলার নিজ বাসভবন থেকে বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি ভোলা পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় নারী কর্মী হিসেবে পরিচিত। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ফেসবুকে বিভিন্ন ভুয়া ফটোকার্ড শেয়ার করা এবং জ্বালানি তেলের সংকট ইস্যু নিয়ে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির তাঁর ফেসবুক পোস্টে এই গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে আরও লিখেন যে, একজন সাওদার লেখনীতেই ক্ষমতার মসনদ কেঁপে উঠেছে, যা বর্তমান প্রশাসন সহ্য করতে পারছে না। তিনি জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে আবারও জাগ্রত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ‘আজাদি’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তাঁর এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য মানুষ তাঁর এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
আইনজীবীদের একটি বড় অংশ মনে করছে, ভিন্নমত দমনে এই ধরনের গ্রেপ্তার হিতে বিপরীত হতে পারে। বিশেষ করে যেখানে একজন নারী কর্মীকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সেখানে আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরের দেওয়া এই আল্টিমেটামের পর এখন প্রশাসন কী ভূমিকা নেয়, সেদিকেই সবার নজর।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন