রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

ভোলায় নারী কর্মী গ্রেপ্তার ইস্যুতে রাশেদ খানের কড়া প্রতিক্রিয়া

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১২:২২ পিএম

ভোলায় নারী কর্মী গ্রেপ্তার ইস্যুতে রাশেদ খানের কড়া প্রতিক্রিয়া

ভোলায় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার এবং আদালতে সোপর্দ করার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ৫ এপ্রিল গভীর রাতে ভোলা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর এই ইস্যুতে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাশেদ খান। 

মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি গ্রেপ্তারকৃত ওই কর্মীর করা বেশ কিছু বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টের কন্টেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।রাশেদ খান তাঁর পোস্টে গ্রেপ্তারকৃত জামায়াত কর্মীর দুটি বিশেষ ফেসবুক পোস্টের ছবি যুক্ত করে তীব্র সমালোচনা করেন। 

তিনি উল্লেখ করেন যে, ওই নারী কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত আপত্তিজনক ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করছিলেন। একটি পোস্টের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একজন বাবার সঙ্গে তাঁর মেয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। 

রাশেদ খানের প্রশ্ন, একজন নারী হয়ে অন্য একজন নারীর বিরুদ্ধে এমন কুৎসিত প্রচার কীভাবে সম্ভব? তিনি অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামী বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এমন আচরণ দেখেও কেন না দেখার ভান করছে।বিএনপি ও জামায়াত উভয়কেই গণঅভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে রাশেদ খান আরও বলেন, রাজনৈতিক বিভেদ বা সমালোচনা থাকতেই পারে, কিন্তু সেটিকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে নর্তকী বানিয়ে প্রচার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। 

বিশেষ করে বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদকে নিয়ে ওই কর্মীর করা মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। রাশেদ খান মনে করেন, গণঅভ্যুত্থানের অংশীদার হিসেবে একে অপরের প্রতি সম্মান রাখা জরুরি ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, এমন ঘৃণা ও গুজব ছড়ানোর সংস্কৃতি কি চলতেই থাকবে, নাকি এর কোনো প্রতিকার হবে?

ফেসবুক পোস্টে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কাঠামোর দিকেও আঙুল তোলেন। এর আগে আমির হামজা নামের এক সংসদ সদস্য তাঁর নারী সহকর্মীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করলেও দলগতভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। রাশেদ খানের মতে, সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু সেটিকে ‍‍`নোংরামি‍‍`র পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত আক্রমণ বা মিথ্যাচারকে সমর্থন করা যায় না।

তবে সবশেষে রাশেদ খান মানবিক দিক বিবেচনা করে জামায়াত কর্মীর মুক্তি দাবি করেছেন। তিনি বলেন, অবশ্যই জামায়াতে ইসলামীর ওই কর্মীকে মুক্তি দেওয়া হোক, কারণ আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে হয়রানি কাম্য নয়। তবে একই সাথে সরকার এবং বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্ব হচ্ছে অনলাইনে এমন ঘৃণা ও কুরুচিপূর্ণ গুজব ছড়ানোর পথ বন্ধ করা। তিনি মনে করেন, রাজনীতির ময়দানে সুস্থ বিতর্কের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।