এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
গণভোটের রায় অবিলম্বে কার্যকর করার দাবিতে রাজপথে নতুন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। জোটটি আগামী ৯ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশেরও ডাক দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জোটের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও শীর্ষ নেতা মাওলানা মামুনুল হক এই ঘোষণা প্রদান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেন যে, গত নির্বাচনে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিলেও নির্বাচিত সরকার সেই রায় বাস্তবায়নে নানাভাবে কালক্ষেপণ করছে।
তিনি বলেন, মানুষের ম্যান্ডেটকে বর্তমান সরকার উপহাস করছে এবং জনগণের রায়কে অপমান করা হচ্ছে। তাঁর মতে, সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং নানা অজুহাতে সময় নষ্ট করছে যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল বিকেল ৫টায় রাজধানীর শাহবাগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এই কর্মসূচি পরবর্তী এক সপ্তাহ ধরে পুরো দেশজুড়ে চলবে। এরপর ১১ এপ্রিল দেশের সব মহানগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
পরদিন ১২ এপ্রিল প্রতিটি জেলা শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে জোটের নেতাকর্মীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৩ এপ্রিল ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে একটি জাতীয় সেমিনার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মামুনুল হক তাঁর বক্তব্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবের ওপর বর্তমান সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি দাবি করেন যে, ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ২০টি অধ্যাদেশ পাস না করার সিদ্ধান্ত জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সরকার দেশে পুনরায় একদলীয় শাসন ও ফ্যাসিবাদের পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা করছে। তবে যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় আদায় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এই নেতা।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মামুনুল হক উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি সংকটে সাধারণ মানুষের জীবন বর্তমানে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এবং সরকারি অব্যবস্থাপনার কারণে ভোগান্তি বাড়ছে। এর পাশাপাশি তিনি বাতিল হওয়া আইসিটি অ্যাক্টের অপপ্রয়োগ করে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতেও তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নেতারা সম্মিলিতভাবে হুঁশিয়ারি দেন যে, জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না। দেশের এই উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ১১ দলের এই কর্মসূচি নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন