রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় প্রয়োজনে সবার আগে বুক পেতে দেবো: জামায়াত আমির

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ৩, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় প্রয়োজনে সবার আগে বুক পেতে দেবো: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশের অন্যতম প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক রক্ষার্থে প্রয়োজনে নিজে রাজপথে নেমে সবার আগে বুক পেতে দেওয়ার এক অভাবনীয় ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার রাতে জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সংবেদনশীল মন্তব্য করেন।

ব্যাংকটির সার্বিক নিরাপত্তা ও সাধারণ গ্রাহকদের আমানত রক্ষা করা দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন তীব্র বার্তা এক গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে ইসলামী ব্যাংক কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক সম্পত্তি নয়, বরং এটি দেশের কোটি কোটি সাধারণ জনগণের ব্যাংক। 

যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এই ঐতিহ্যবাহী আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ আমানত রেখেছেন, প্রকৃত অর্থে এই বিশাল ব্যাংকটি সম্পূর্ণভাবে সেই সাধারণ গ্রাহকদের। ব্যাংকে আমানত রাখা নিরীহ নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে দল সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি নিজের বক্তব্যে দৃঢ়তার সাথে পুনর্ব্যক্ত করেন।আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং ব্যাংক লুটেরাদের হাত থেকে সাধারণ মানুষের গচ্ছিত সম্পদ রক্ষা করতে রাজনৈতিক দলগুলোর এমন আপসহীন অবস্থান অত্যন্ত জরুরি।

ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের কঠোর সমালোচনা করে তীব্র অভিযোগ করেন যে একজন কুখ্যাত ফ্যাসিস্টের দোসরকে অন্যায়ভাবে ইসলামী ব্যাংকের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন যে দেশের প্রচলিত নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে একজন চিহ্নিত বড় ঋণখেলাপির স্বামী কীভাবে এই মর্যাদাপূর্ণ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে আসীন হতে পারেন। পরিশেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে গ্রাহকদের ওপর যদি কোনো অন্যায় জুলুম বা হামলা চালানো হয়, তবে তিনি নিজে সবার আগে রাস্তায় নেমে সেই বুলেটের মুখোমুখি হবেন।