বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

১৫ বছরের ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় তবে কাজ শুরু হয়েছে : ফখরুল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১৯, ২০২৬, ০২:০৫ পিএম

১৫ বছরের ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় তবে কাজ শুরু হয়েছে : ফখরুল

ছবি - সংগৃহীত

বিগত সরকারের ১৫ বছরের লুটপাট, ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাযজ্ঞের ক্ষতি অল্প সময়ের মধ্যে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এডিটর’স কাউন্সিল আয়োজিত জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্দোলনে শহীদ পাঁচ সাংবাদিকের পরিবারের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও এক লাখ টাকা করে অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান যেদিন বাতিল হয়েছিল, সেদিনই ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি পাওয়া গিয়েছিল। দীর্ঘকাল ধরে একটি দল তাদের নীলনকশা ও একদলীয় শাসন চাপিয়ে দিতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। এত অল্প সময়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়, তবে গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর বিএনপির পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত। সনদে পরিষ্কার বলা আছে যে, রাজনৈতিক দলগুলো যে বিষয়গুলোতে একমত হতে পারছে না, তারা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় গেলে নিজেদের ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করবে। বিএনপি এই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চায়। 

এ সময় তিনি সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এসে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধানের জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।বিএনপির দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়, এটি একটি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিএনপি নির্বাচনে বিশ্বাস করে এবং নির্বাচনের মাধ্যমেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের কল্যাণ করতে চায়।

বিগত সরকারের দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং ইলিয়াস আলীসহ প্রায় এক হাজার ৭০০ মানুষকে গুম করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে আলোচকরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিকদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন এবং তোষামোদি পরিহার করে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানান।