অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ০৫:৪৮ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যখন ঐকমত্য গড়ার চেষ্টা চলছে, ঠিক সেই সময়ে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি যখন অন্তর্বর্তী সরকারকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে, তখন কোনো কোনো রাজনৈতিক দল এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।
বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির প্রকাশনা ‘মহাকালের মহানায়ক শহীদ জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে চলমান সমালোচনার জবাব দেন এবং দাবি করেন, বাংলাদেশে ইতিবাচক সংস্কারের সব কাজ বিএনপির হাত দিয়েই হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্যে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা সহযোগিতা দিয়ে একটা জায়গায় আসার চেষ্টা করছি, যেন একটা নির্বাচন করা যায়। আমি কোনো দলকে দোষারোপ করতে চাই না, কোনো ব্যক্তিগত দোষারোপ করতে চাই না। কিন্তু হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করি, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচন যেন পিছিয়ে যায়, নির্বাচন যেন সঠিক সময় না হয় তার চেষ্টা করছে।
এটা ঠিক হচ্ছে না। তার এই বক্তব্য জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি অবশ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে কিছু সংস্কারের কাজ শেষ করার জন্য জাতীয় সংস্কার কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, এই সংস্কারের দাবিগুলো বিএনপিই প্রথম তুলেছিল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান ২০২২ সালে যে ৩১ দফা দিয়েছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় কিন্তু আমরা এই সংস্কারগুলো দিয়েছি। ম্যাডাম (বেগম খালেদা জিয়া) দিয়েছিলেন ২০১৬ সালে ভিশন-২০৩০। আর আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দিয়েছিলেন ১৯ দফা কর্মসূচি। সব কিছু মিলিয়ে এসব সংস্কার। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বিএনপির জন্মই হয়েছে সংস্কারের মধ্য দিয়ে। তার ভাষায়, সংস্কার দিয়েই একদলীয় শাসন ব্যবস্থা (বাকশাল) থেকে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে নিয়ে এসেছিলেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বা ফ্রিডম অফ প্রেস প্রেসিডেন্ট জিয়াই দিয়েছিলেন। জনগণের মৌলিক স্বাধীনতার অধিকারগুলো প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই দিয়েছিলেন। এই ধারা অব্যাহত রেখে বেগম খালেদা জিয়া প্রেসিডেন্সিয়াল ফর্ম অফ গভর্নমেন্ট থেকে পার্লামেন্টারি ফর্ম অফ গভর্নমেন্টে (সংসদীয় ব্যবস্থা) নিয়ে এসেছিলেন। মেয়েদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনা খরচে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, মেয়েদের চাকরিতে কোটা দেওয়া, মহিলা অধিদপ্তর করা—সবই বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়ার করে দেওয়া বলে তিনি দাবি করেন।
বিএনপিকে ‘ভিলেন’ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এমনভাবে কথা বলা হয় যেন বিএনপি একটা ভিলেন। কিছু কিছু লোক বলার চেষ্টা করেন, আমি বিস্মিত হই। আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, বাংলাদেশে যা কিছু ভালো হয়েছে, সব বিএনপির হাত দিয়ে হয়েছে। জিয়াউর রহমানের হাত দিয়ে হয়েছে। খালেদা জিয়ার হাত দিয়ে হয়েছে। তিনি সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়ার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল আওয়ামী লীগ।
জিয়াউর রহমানের মাজার পর্যন্ত তুলে নিয়ে যাবে, তার নামগন্ধ থাকবে না— এমন সব অগণতান্ত্রিক চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমানকে ইতিহাস ধারণ করেছে। তাকে মুছে ফেলা যাবে না। কারণ সত্যিকার অর্থেই জিয়াউর রহমান ক্ষণজন্মা। আল্লাহ যাকে পাঠিয়েছেন মানুষের কল্যাণের জন্য তাকে কি এত সহজেই ছুড়ে ফেলা যায়? যায় না।
দলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারেক রহমান আমাদের নেতা, যিনি আজকে নতুন করে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করবার জন্য কাজ করছেন। তিনি সেই একই ধারার (জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া) নেতা। তিনি চীনে বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে একটি পুরোনো স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, প্রচণ্ড শীতের কারণে গ্রেট হলের ভেতরে ম্যাডামকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়।
ম্যাডাম যখন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন তারেক রহমানের সামনে এসে বললেন, ‘হি ইজ মাই সান (আমার ছেলে)’। তখন চীনের প্রধানমন্ত্রী তার (তারেক রহমানের) হাতটা শক্ত করে ধরে ঝাঁকিয়ে বললেন, ‘কেরি অফ দি ফ্ল্যাগ, স্ট্যান্ড ফাদার অ্যান্ড মাদার’ (আপনার বাবা-মায়ের পতাকা বহন করুন)।’ মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে তারেক রহমান সাহেব সেই পতাকা তুলে ধরেছেন, যে পতাকা হচ্ছে স্বাধীনতার পতাকা, এ দেশের মানুষের অধিকারের পতাকা, গণতন্ত্রের পতাকা, উন্নয়নের পতাকা।
ইনশাআল্লাহ আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিশ্চয়ই এই বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করব এবং গণতন্ত্রকে আরও উজ্জীবিত করব। আমরা অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিকীকরণ করব।৬৪০ পৃষ্ঠার ‘মহাকালের মহানায়ক শহীদ জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম ও আবদুল হাই শিকদার। হামিদুল ইসলামের প্রচ্ছদ করা গ্রন্থটির মূল্য রাখা হয়েছে দুই হাজার টাকা।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও প্রকাশনা উপকমিটির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এবং প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশররফ হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল হাই শিকদার, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর পাভেল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, জাসাসের সাবেক সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, কলামিস্ট সাখাওয়াত হোসেন সায়ান্থ এবং মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত।




দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন