বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাবির বকুলতলায় শিশু উৎসব

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ০৭:৫১ পিএম

যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাবির বকুলতলায় শিশু উৎসব

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এক বর্ণাঢ্য "শিশু উৎসব"-এর আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং শিশু মনস্তত্ত্ববিষয়ক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মাহদী আমিন। যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ড. মাহদী আমিন বলেন, এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিশুই বিজয়ী, কারণ আজকের শিশুদের হাত ধরেই আগামী দিনের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তিনি শিশুদের মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশে সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে ড. মাহদী আমিন বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশে যে ভূমিকা রেখেছিলেন, তা আজও অনন্য। তিনি শিশুদের জন্য শিশু একাডেমী, শিশু পার্ক ও শিশু চলচ্চিত্র কেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন। প্রতি বছর তিনি শিশু সম্মেলনের আয়োজন করতেন এবং নিজে পুরো দিন শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতেন।" তিনি অভিযোগ করেন, "কিন্তু গত ১৭ বছর ধরে আমাদের শিশুদের সামনে জিয়াউর রহমানকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। এই ইতিহাস জানা না থাকলে আমাদের জাতীয় ইতিহাস অপূর্ণ থেকে যাবে।"

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন ড. আজহারুল ইসলাম তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, "যুবদল যে উদ্যম নিয়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আয়োজন করেছে, তা একটি ইতিবাচক নতুন জাতি গঠনের কার্যক্রম। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নাগরিক। তাদের সৃজনশীল চিন্তা, যুক্তি ও অনুধাবনের ক্ষমতা বিকশিত করার জন্য এমন উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন।" তিনিও জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করে বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই প্রথম শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই ধারাবাহিকতা আজ হারিয়ে গেছে।"বক্তারা বলেন, একটি দেশের সাংস্কৃতিক অগ্রগতি তার সভ্যতা ও উন্নয়নের প্রতিফলন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, শিল্প ও সাহিত্যকে শিশুদের মাধ্যমে পরিচিত করানোই হবে প্রকৃত জাতি গঠনের সঠিক পথ।

চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় অনুষ্ঠিত এই শিশু উৎসবে শত শত শিশু, তাদের অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উৎসব শেষে শিশুদের আঁকা ছবির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সবশেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।