সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নামাজরত ব্যক্তির কতটুকু সামনে দিয়ে হাঁটা যাবে?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৩:৫৭ পিএম

নামাজরত ব্যক্তির কতটুকু সামনে দিয়ে হাঁটা যাবে?

ইসলামে নামাজের মর্যাদা অত্যন্ত বেশি, তেমনই নামাজি ব্যক্তির মর্যাদাও বেশি। এই কারণে নবীজি (সা.) নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।

নবীজি (সা.) বলেছেন:নামাজি ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী যদি জানত এতে কীরূপ শাস্তি ভোগের আশঙ্কা রয়েছে, তবে চল্লিশ পর্যন্ত ঠায় দাঁড়িয়ে থাকাও ভালো মনে করত সে।" (বোখারি : ৫১০, মুসলিম : ৫০৭)

কিন্তু অনেকেই নামাজির সামনে দিয়ে চলাফেরা করেন। আবার অনেকে নিষেধ করতে গিয়ে বলেন, 'নামাজের সামনে দিয়ে যাওয়া-আসা করলে ৪০ দিনের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়।'

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা জামিয়া কৌড়িয়ার প্রধান মুফতি ও মুহাদ্দিস মাওলানা হেলাল আসহাব কাসেমি জানিয়েছেন, নিঃসন্দেহে নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গোনাহের কাজ। হাদিসে কঠোরভাবে এটি নিষেধ করা হয়েছে। তবে:নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া করলে চল্লিশ দিনের এবাদত নষ্ট হয়ে যায়’— এমন বক্তব্য ইসলামি শরীয়তে প্রমাণিত নয়। বরং এটি মিথ্যা ও বানোয়াট কথা।

নামাজরত ব্যক্তির কতটুকু সামনে দিয়ে হাঁটা যাবে, এই প্রশ্নে উলামায়ে কেরামের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে:সরাসরি সামনে নয়: কেউ যদি নামাজরত ব্যক্তির বরাবর সামনে থাকেন, তাহলে সেখান থেকে ডানে কিংবা বামে চলে যাওয়ার অবকাশ আছে। এটা অতিক্রম করার অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে বিনা প্রয়োজনে এমন করা উচিত নয়।সুতরা থাকলে: অনুরূপভাবে যদি নামাজরত ব্যক্তির সামনে শরয়ী ‘সুতরা’ (আড়াল) থাকে, তাহলে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করা যাবে।

মসজিদের প্রশস্ততা ও কাতার: যে মসজিদের প্রশস্ততা ৪০ বর্গ হাতের বেশি, এমন মসজিদে নামাজরত ব্যক্তির দৃষ্টি সেজদার স্থানে থাকলেও, সাধারণত যে স্থান পর্যন্ত নজরে আসে, এর পরিমাণ যদি মুসল্লির কাতারসহ সামনের আরও দুই কাতার হয়, তবে ততটুকু জায়গার বাইরে দিয়ে অতিক্রম করা যাবে। এর ভেতর দিয়ে করলে গোনাহ হবে। (আল হিদায়া : ১/১১৮)

সিজদা স্থান বা তিন কাতার: প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, উলামায়ে কেরামের একাংশ সিজদার জায়গার বাইরে দিয়ে হাঁটাচলা করার কথা বলেছেন (এক কাতার সামনে)। আবার অনেকে মনোযোগ নষ্ট না হওয়ার যুক্তিতে তিন কাতারের সামনে দিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন।

উলামায়ে কেরামের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে, যতটুকু জায়গা দিয়ে হাঁটলে নামাজি ব্যক্তির মনোযোগ নষ্ট হবে না ততটুকু জায়গা দিয়ে যাওয়া যেতে পারে। তবে তিনি যত বেশি দূরত্ব রাখা যায়, তত বেশি দূরত্ব রেখে যাওয়ার পরামর্শ দেন।