নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৫:৪৪ পিএম
অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দোয়া করা একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। এটি রোগীর জন্য শান্তি ও দ্রুত সুস্থতা নিয়ে আসে এবং দোয়াকারীর জন্য আল্লাহর রহমত অর্জনের মাধ্যম। মহানবী (সা.) অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ দোয়া ও আমল শিখিয়েছেন, যা হাদিসে বর্ণিত আছে।
এই দোয়াগুলো রোগী নিজে পড়তে পারেন অথবা অন্য কেউ রোগীর জন্য পড়ে দিতে পারেন।হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) অসুস্থ ব্যক্তির জন্য এই দোয়া পড়তেন:
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বান নাস, আযহিবিল বাস, ইশফি আনতাশ শাফি, লা শিফায়া ইল্লা শিফাউক, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা।
অর্থ: হে আল্লাহ! মানুষের প্রভু, রোগ দূর করো, সুস্থতা দাও, তুমিই সুস্থতা দানকারী। তোমার সুস্থতা ছাড়া কোনো সুস্থতা নেই, এমন সুস্থতা দাও যা কোনো রোগ রাখে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭৪৩)পড়ার নিয়ম: রোগীর ডান হাত দিয়ে তার কপাল বা শরীরের ব্যথার স্থানে হাত রেখে এই দোয়া পড়া। তিনবার বা সাতবার পড়া উত্তম।সুরা ফাতিহা রোগ নিরাময়ের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। হাদিসে আছে, সুরা ফাতিহা শিফা বা নিরাময়ের জন্য পড়া যায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭৩৬)
সুরা ফাতিহা: সাতবার পড়ে রোগীর শরীরে ফুঁ দেওয়া উত্তম।
সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস (তিন কুল): হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) অসুস্থ হলে এই তিনটি সুরা পড়তেন এবং শরীরে ফুঁ দিতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৫,০১৭)পড়ার নিয়ম: তিনটি সুরা তিনবার করে পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে রোগীর শরীরে মুছে দেওয়া।
অসুস্থ ব্যক্তির জন্য নিজের ভাষায়ও দোয়া করা যায়। উদাহরণ: ‘হে আল্লাহ! আমার/তার রোগ দূর করো, সুস্থতা দান করো, তুমি সব ক্ষমতার মালিক।’ নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া ইবাদতের মূল।’ (সুনান তিরমিজি, হাদিস: ৩,৩৭১)। নিজের ভাষায় দোয়া করার সময় আন্তরিকতা ও আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ ভরসা রাখা জরুরি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন