ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫, ১০:৪৫ এএম
ইসলাম শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত, যেমন—সালাত বা সিয়ামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও ইসলামের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে মুসলিম সমাজকে এমন এক উচ্চ নৈতিকতার শিক্ষা দিয়েছেন।
যেখানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদকে কেবল ব্যক্তিগত ভোগের বস্তু হিসেবে দেখা হয়নি, বরং তাকে অসহায় মানুষের অধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
এই মৌলিক সত্যটি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে সহিহ মুসলিমের ১৭২৮ নং হাদিসে।আবূ সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত:একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম।
এসময় এক ব্যক্তি সওয়ারীতে আরোহণ করে তার কাছে এলো এবং ডানদিকে ও বামদিকে তাকাতে লাগলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যার কাছে আরোহণের কোনো অতিরিক্ত বাহন থাকে, সে যেন তা দিয়ে তাকে সাহায্য করে যার কোনো বাহন নেই। আর যার কাছে অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য থাকে সে যেন তা দিয়ে তাকে সাহায্য করে যার খাদ্যদ্রব্য নেই।" এরপর তিনি বিভিন্ন প্রকার সম্পদ সম্পর্কে এমনিভাবে বললেন।এই হাদিসটি ইসলামী জীবন দর্শনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে:
১. সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতিষ্ঠা: এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামে ব্যক্তি-স্বার্থের চেয়ে সমাজের কল্যাণ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আপনার প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ (ফাদল) ভোগবিলাসের জন্য নয়; বরং তা সমাজের অভাবগ্রস্তের হক বা অধিকার।
২. ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার বাস্তব রূপ: রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসলিম উম্মাহকে এমন এক দৃঢ় ভ্রাতৃত্বে আবদ্ধ করতে চেয়েছেন, যেখানে একজনের অতিরিক্ত বাহন বা খাদ্য অন্যের কষ্ট ও দুঃখ লাঘবের মাধ্যম হবে।
৩. সম্পদের মালিকানার নৈতিক সীমা: এই হাদিস নির্দেশ করে যে, ইসলামে সম্পদের মালিকানা নিরঙ্কুশ নয়; বরং এটি দায়িত্বপূর্ণ মালিকানা। সমাজে যখন কেউ বঞ্চিত বা অসহায় থাকে, তখন অতিরিক্ত সম্পদের উপর ব্যক্তিগত দাবি নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে যায়।
৪. মানবিকতা কখনো স্থগিত হয় না: সফরের মতো কঠিন অবস্থাতেও রাসূল (সা.) মানবিক দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। এর অর্থ হলো, পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, মুসলমানের মানবিক দায়িত্ব কখনো স্থগিত হতে পারে না।
৫. ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্রের ভিত্তি: এই হাদিসটি ইসলামী সমাজব্যবস্থার মৌলিক দর্শনকে তুলে ধরে, যার প্রধান লক্ষ্য হলো সমাজের কেউ অভুক্ত বা অসহায় থাকবে না, যতক্ষণ সমাজে কারো কাছে অতিরিক্ত সামর্থ্য বা সম্পদ বিদ্যমান থাকে।
এই হাদিসের শিক্ষা অনুযায়ী, একজন প্রকৃত মুসলিমের জীবন কেবল ইবাদত ও ব্যক্তিগত উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং অন্যের প্রতি সহমর্মিতার মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন