রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কোরআনের বরকত ও তাকওয়ার অপরিহার্যতা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ১০:২৬ এএম

কোরআনের বরকত ও তাকওয়ার অপরিহার্যতা

 

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে  :$ثُمَّ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡكِتٰبَ تَمَامًا عَلَی الَّذِیۡۤ اَحۡسَنَ وَ تَفۡصِیۡلًا لِّكُلِّ شَیۡءٍ وَّ هُدًی وَّ رَحۡمَۃً لَّعَلَّهُمۡ بِلِقَآءِ رَبِّهِمۡ یُؤۡمِنُوۡنَ ﴿۱۵۴﴾$

সরল অনুবাদ (১৫৪): আর মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম যা সৎকর্মপরায়ণের জন্য পূর্ণাঙ্গ; যা সমস্ত কিছুর বিশদ বিবরণ, পথনির্দেশ এবং দয়াস্বরূপ; যাতে তারা তাদের প্রতিপালকের সাক্ষাৎ সম্বন্ধে বিশ্বাস করে।

وَ هٰذَا كِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰهُ مُبٰرَكٌ فَاتَّبِعُوۡهُ وَ اتَّقُوۡا لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ ﴿۱৫৫   :সরল অনুবাদ (১৫৫): এ কিতাব আমি অবতরণ করেছি যা কল্যাণময়। সুতরাং ওর অনুসরণ কর এবং সাবধান হও, হয়তো তোমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা হবে।

সুরা আনআমের ১৫৪ নম্বর আয়াতে হযরত মূসা (আ.)-এর প্রতি অবতীর্ণ তাওরাত-এর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, তাওরাত ছিল সৎকর্মপরায়ণ ও আল্লাহভীরু নেককারদের জন্য হিদায়াতের এক পরিপূর্ণ বিধানগ্রন্থ।সৎকর্মপরায়ণের জন্য পূর্ণাঙ্গ’: যারা আন্তরিকভাবে আল্লাহর আনুগত্য করতে চেয়েছে, তাদের জন্য এতে কোনো অপূর্ণতা ছিল না।সমস্ত কিছুর বিশদ বিবরণ’: এর দ্বারা উদ্দেশ্য জাগতিক জ্ঞান নয়, বরং দ্বীন, শরিয়াহ, হালাল-হারাম, নৈতিকতা, ইবাদত ও সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সব মৌলিক নির্দেশনা সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত ছিল।

পথনির্দেশ এবং দয়াস্বরূপ’: এটি ছিল বিভ্রান্ত মানবসমাজের জন্য আলোর দিশারি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ রহমত।মূল উদ্দেশ্য: তাওরাতের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে আখিরাতমুখী করা এবং আল্লাহর সামনে জবাবদিহির বিশ্বাস জাগ্রত করা।সুরার ১৫৫ নং আয়াতে সরাসরি কোরআনুল কারিম-এর কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করছেন— “এ কিতাব আমি অবতরণ করেছি”— অর্থাৎ এটি সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি।

কোরআন ‘কল্যাণময়’ (মুবারাক): এই কিতাবের সঙ্গে কল্যাণ অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র; যে পর্যায়েই কোরআনের শিক্ষা বাস্তবায়িত হবে, সেখানেই বরকত, ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। এর বরকত শুধু দুনিয়াবি কল্যাণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আখিরাতের মুক্তির পথও এতে নিহিত।অনুসরণের নির্দেশ: আল্লাহ বলেন, “সুতরাং ওর অনুসরণ কর”। এখানে শুধু তিলাওয়াত বা মুখস্থ করাকে উদ্দেশ্য করা হয়নি; বরং আকীদা, আমল, চরিত্র, আইন ও জীবনব্যবস্থায় কোরআনকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাকওয়ার অপরিহার্যতা: “আর সাবধান হও” অর্থাৎ তাকওয়া অবলম্বন করো, আল্লাহকে ভয় করো, তাঁর সীমা লঙ্ঘনথেকে নিজেকে রক্ষা করো। কোরআনের অনুসরণ ও তাকওয়া—এই দুটির সমন্বয়েই আল্লাহর রহমত লাভ সম্ভব।