জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
ইসলামের ইতিহাসে জুমার দিন বা শুক্রবারকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দিনের মর্যাদা ও তাৎপর্য অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় অনেক বেশি। আরবি জুমা শব্দের অর্থ হলো একত্র হওয়া। জুমার দিন মহান আল্লাহ তায়ালার ইবাদতের জন্য মুমিন মুসলমানরা মসজিদে সমবেত হন।
পবিত্র কোরআনে জুমার গুরুত্ব তুলে ধরে একটি স্বতন্ত্র সুরা নাজিল করা হয়েছে যেখানে জুমার আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জাগতিক কাজকর্ম ত্যাগ করে আল্লাহর স্মরণে মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো গোসল করা।
তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই একটি প্রশ্ন জাগে যে গোসল না করে জুমার নামাজ আদায় করা যাবে কি না বা করলে নামাজ কবুল হবে কি না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনে গোসল করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। সহিহ বুখারি ও মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন যে জুমার দিন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য গোসল করা কর্তব্য। এমনকি সাহাবিদের যুগে কেউ গোসল না করে মসজিদে এলে খলিফা হযরত উমর (রা.) খুতবা চলাকালীন তাকে এ বিষয়ে সতর্ক করতেন। আওস ইবনু আওস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে যে ব্যক্তি জুমার দিনে ভোরে গোসল করল এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনল তার প্রতি কদমের বিনিময়ে এক বছরের নফল রোজা ও নামাজের সওয়াব পাওয়া যায়। এসব বর্ণনা থেকে স্পষ্ট যে জুমার নামাজের আগে গোসল করা একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সুন্নাহ।
গোসল না করে জুমার নামাজ পড়ার বৈধতা নিয়ে আলেমদের মধ্যে কিছুটা বিশ্লেষণাত্মক মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ ফকিহ ও আলেমের মতে যদি কোনো ব্যক্তির ওপর গোসল ফরজ না হয়ে থাকে তবে জুমার দিনের এই বিশেষ গোসলটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা নফল ইবাদতের পর্যায়ভুক্ত। অর্থাৎ যদি সময় বা সুযোগের অভাবে কেউ গোসল করতে না পারে তবে শুধুমাত্র ওজু করে নামাজ আদায় করলে তার জুমার নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। তবে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতটি বর্জন করা উচিত নয়।
রাসুল (সা.) এর যুগে মানুষ সকাল থেকে কঠোর পরিশ্রমে লিপ্ত থাকত বলে শরীর ঘামে ভিজে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হতো। মসজিদে অনেকের উপস্থিতিতে যাতে অন্যদের কষ্ট না হয় সেজন্য পরিচ্ছন্নতার ওপর এই কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।এখানে মনে রাখা জরুরি যে যদি কারো ওপর অপবিত্রতার কারণে গোসল ফরজ হয়ে থাকে তবে গোসল করা ছাড়া তার কোনো নামাজই হবে না। কিন্তু সাধারণ অবস্থায় জুমার দিন গোসল করা একটি পছন্দনীয় ও সওয়াবের কাজ যা ইবাদতের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হয়।
ইসলাম একটি সহজ ও বিজ্ঞানসম্মত ধর্ম যেখানে পরিচ্ছন্নতাকে ইমানের অঙ্গ বলা হয়েছে। তাই জুমার মর্যাদা রক্ষায় সুগন্ধি মাখা পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা এবং আগেভাগে গোসল করে মসজিদে যাওয়া প্রত্যেক মুসলিমের জন্য উত্তম। তবে বিশেষ কোনো ওজরের কারণে গোসল করতে না পারলে নামাজ বাদ দেওয়া যাবে না বরং ওজু করে সঠিক সময়ে জামাতে শরিক হতে হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন