মার্চ ৪, ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। মাহে রমজানের বরকত ও হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল কদরের ফজিলত লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায় হলো ইতিকাফ। আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে কেউ যদি মাত্র একদিন ইতিকাফ করেন তবে আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মাঝে আসমান-জমিনের দূরত্বের সমান তিনটি পরিখার ব্যবধান তৈরি করে দেন।
ইতিকাফের এই বিধান কেবল পুরুষদের জন্য নয় বরং নারীদের জন্যও এর বিশেষ গুরুত্ব ও সওয়াব রয়েছে। ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র স্ত্রীগণও নিয়মিত ইতিকাফ পালন করতেন।
উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীগণও এই আমল অব্যাহত রেখেছিলেন।
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে নারীদের ইতিকাফ করার হার বেশ কম হলেও ইসলামে তাদের জন্য ঘরে বসে ইতিকাফ করা খুবই সহজ ও সওয়াবের কাজ। নারীদের জন্য নামাজের উপযুক্ত স্থান হলো তাদের ঘর। হাদিস অনুযায়ী ঘরে নামাজ পড়লে নারীরা মসজিদে আদায়ের সমান সওয়াব পান তাই তাদের ইতিকাফের স্থান হিসেবে ঘরকেই নির্ধারণ করা হয়েছে। নারীরা তাদের ঘরে নামাজ আদায়ের জন্য আগে থেকেই নির্ধারিত কোনো স্থান থাকলে সেখানে ইতিকাফ করতে পারেন অন্যথায় ইতিকাফের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান বেছে নিতে হবে।
ইতিকাফের সেই স্থানটিকে পর্দা দিয়ে আলাদা করে নেওয়া জরুরি যাতে ঘরে কোনো পরপুরুষের যাতায়াত থাকলেও পর্দার কোনো বিঘ্ন না ঘটে। বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে ইতিকাফ করার আগে অবশ্যই স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। স্বামীদেরও উচিত হবে কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া স্ত্রীদের এই মহান ইবাদতে বাধা না দেওয়া। এতে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ই সওয়াবের অংশীদার হবেন।
নারীদের ইতিকাফের ক্ষেত্রে কিছু জরুরি মাসআলা ও বিধিনিষেধ রয়েছে যা পালন করা আবশ্যক। ঋতুস্রাব চলাকালীন অবস্থায় নারীদের ইতিকাফ করা বৈধ নয় কারণ এই সময় রোজা রাখা সম্ভব নয় আর সুন্নাত ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা একটি অপরিহার্য শর্ত। ইতিকাফ শুরু করার পর যদি কোনো নারীর ঋতুস্রাব শুরু হয় তবে তার ইতিকাফ ভেঙে যাবে এবং পরবর্তীতে একদিনের ইতিকাফ রোজাসহ কাজা করতে হবে।
এছাড়া ইতিকাফের জন্য নির্ধারিত স্থানটি শরীয়তের দৃষ্টিতে মসজিদের মতোই গণ্য হয়। তাই প্রাকৃতিক প্রয়োজন যেমন প্রস্রাব বা পায়খানা এবং ওজু করা ছাড়া সেই স্থান ত্যাগ করা যাবে না। যদি ঘরের সেই কামরার ভেতরেই সংযুক্ত বাথরুম থাকে তবে বাথরুম ব্যবহারের জন্য বাইরে যাওয়াও বৈধ হবে না। অকারণে ইতিকাফের স্থানের বাইরে ঘরের অন্য কোনো অংশে গেলেও ইতিকাফ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ইতিকাফ অবস্থায় নারীরা বিভিন্ন ধরনের নফল ইবাদতে মগ্ন থাকতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে নফল নামাজ আদায় কোরআন ও হাদিস তিলাওয়াত জিকির-আসকার দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ এবং ইসলামি বইপত্র পড়া। ইতিকাফের মূল লক্ষ্যই হলো দুনিয়াবি সমস্ত কোলাহল ও অপ্রয়োজনীয় আলোচনা থেকে মুক্ত হয়ে পুরোপুরি আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হওয়া।
নারীরা তাদের সংসারের অতি প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিলেও ইবাদত থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। ইতিকাফের এই দিনগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার মাধ্যমে একজন নারী পরকালীন জীবনের বড় পাথেয় সংগ্রহ করতে পারেন। নিয়ম মেনে ও সহিহভাবে ইবাদত সম্পন্ন করলে ঘরে বসেই একজন নারী ইতিকাফের পূর্ণ সওয়াব হাসিল করতে সক্ষম হবেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন