রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শাওয়ালের ছয় রোজা কি একাধারে রাখা জরুরি?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২৩, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম

শাওয়ালের ছয় রোজা কি একাধারে রাখা জরুরি?

শাওয়ালের ছয় রোজা

রমজান পরবর্তী শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে এই রোজা পালন করতেন এবং উম্মতদেরও তা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন যে ব্যক্তি রমজানের রোজা পালন করল এবং এরপর শাওয়ালের আরও ছয়টি রোজা রাখল সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল। 

ইসলামের বিধান অনুযায়ী একটি নেক কাজের সওয়াব ১০ গুণ বৃদ্ধি পায়। সেই হিসেবে রমজানের ৩০টি এবং শাওয়ালের ৬টি রোজা মিলে মোট ৩৬টি রোজা হয় যা দশ গুণ সওয়াবের হিসেবে ৩৬০ দিন বা এক বছরের সমান সওয়াব এনে দেয়।

অনেকের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন থাকে যে শাওয়ালের এই ছয়টি রোজা কি একাধারে বা টানা রাখা জরুরি কিনা। এ বিষয়ে ইসলামি শরীয়ত ও ফকিহগণের অভিমত হলো শাওয়ালের রোজা একাধারে রাখা মোটেও জরুরি নয়। এই রোজাগুলো শাওয়াল মাসের ভেতরে বিরতি দিয়ে আলাদা আলাদাভাবে রাখলেও আমলটি সম্পন্ন হবে।

 কেউ চাইলে টানা ছয় দিন রাখতে পারেন আবার কেউ চাইলে পুরো মাসের বিভিন্ন দিনে ভাগ করে রাখতে পারেন। বিশেষ করে সাপ্তাহিক সুন্নাহ রোজা হিসেবে পরিচিত প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবারের সঙ্গে মিলিয়ে এই রোজাগুলো সম্পন্ন করা অনেক সহজ হতে পারে। এতে প্রতি সপ্তাহে দুটি করে তিন সপ্তাহেই এই ফজিলত অর্জন করা সম্ভব।ঈদুল ফিতরের পরদিন থেকেই শাওয়ালের এই নফল রোজা শুরু করা যায়। অনেকে মনে করেন ঈদের ছুটি তিন দিন তাই এই সময়ে রোজা রাখা যাবে না যা একটি ভুল ধারণা। 

ইসলামি বিধান মতে ঈদ কেবল শাওয়াল মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা শাওয়াল। তাই দ্বিতীয় দিন থেকেই যে কোনো নফল বা রমজানের কাজা রোজা রাখা জায়েজ। রোজার নিয়তের ক্ষেত্রে অন্তরের ইচ্ছাই যথেষ্ট। তবে মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা উত্তম। যারা আরবি জানেন না তারা বাংলায়ও নিয়ত করতে পারেন। শাওয়াল মাসের ভেতরে এই আমলটি করার মাধ্যমে একজন মুমিন খুব সহজেই সারা বছর রোজা রাখার অসামান্য সওয়াব অর্জন করতে পারেন।