শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

জিলহজের প্রথম দশ দিনে নারীদের বিকল্প আমলের বিধান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৯, ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

জিলহজের প্রথম দশ দিনে নারীদের বিকল্প আমলের বিধান

জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য বছরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে অনেক নারী হায়েজ, নেফাস, গর্ভাবস্থা বা সন্তানকে দুগ্ধদানের মতো বিভিন্ন যৌক্তিক শারীরিক কারণে এই দিনগুলোতে রোজা রাখতে পারেন না। আজ মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ তারিখে ইসলামি শরিয়তের বিভিন্ন প্রামাণ্য দলিল ও আলেমদের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে যে রোজা ছাড়াও ইবাদতের আরও বহু বিকল্প পথ নারীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

আন্তরিক নিয়তের কারণে ওজর থাকলেও আল্লাহ নারীদের সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন।হাদিস অনুযায়ী শারীরিক ওজরের কারণে রোজা থেকে বিরত থাকা কোনো ত্রুটি নয়, বরং আল্লাহর হুকুম মানারই একটি অংশ। 

এই পবিত্র দিনগুলোতে নারীরা ঘরের কাজের ফাঁকে বা চলাফেরার সময় বেশি বেশি তাকবির, তাহলিল ও তাহমিদ পাঠ করতে পারেন। জিলহজের ৯ তারিখ তথা আরাফার দিনটিকে বছরের সর্বোত্তম দিন বলা হয়। এই বিশেষ দিনে রোজা না রেখেও নারীরা দীর্ঘক্ষণ ইস্তিগফার ও নিজের জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফের জন্য ব্যক্তিগত দোয়া ও মোনাজাতে মশগুল থাকতে পারেন যা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।

হায়েজ অবস্থায় সরাসরি কোরআন স্পর্শ করে তেলাওয়াত করা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে বা মোবাইলে কোরআন শ্রবণ করা ও এর অনুবাদ অধ্যয়নে কোনো বাধা নেই। এর পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যরা যারা এই দিনগুলোতে রোজা রাখছেন, তাঁদের জন্য সাহরি ও ইফতার প্রস্তুত করাও অনেক বড় মেহনত ও মহান ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। সামর্থ্য অনুযায়ী এই দিনগুলোতে সামান্য হলেও দান-সদকা করা বা কোরবানির পবিত্র কাজে আর্থিক অংশগ্রহণ করার মাধ্যমেও বিশেষ সওয়াব অর্জন করা সম্ভব।

যারা কোরবানি দেওয়ার নিয়ত করেছেন, তাঁদের জন্য জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি দেওয়া পর্যন্ত চুল, নখ ও চামড়া না কাটা মোস্তাহাব আমল। এই বিশেষ নিয়মটি নারীরাও ঘরে বসে পালন করতে পারেন কারণ এটি রোজার সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং কোরবানির পূর্ণ সওয়াবের অংশীদার হওয়ার একটি মাধ্যম। অন্যদিকে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়েরা যদি রোজা রাখলে নিজেদের বা সন্তানের স্বাস্থ্যগত ক্ষতির আশঙ্কা করেন, তবে ইসলাম তাঁদের রোজা না রাখার শিথিলতা দিয়েছে যা পরবর্তীতে কাজা আদায় করলেই চলবে।