মার্চ ২৮, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
রমজান মাসের রোজা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ফরজ ইবাদত হিসেবে নির্ধারিত। তবে অসুস্থতা বা সফরের মতো গ্রহণযোগ্য শরয়ী কারণে রোজা পালন করতে না পারলে পরবর্তীতে তা কাজা করার সুযোগ ইসলামি বিধানে রাখা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যারা অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তারা অন্যান্য দিনে এই সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ মানুষের জন্য সহজতা চান এবং কোনো প্রকার কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে চান না।
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, কেউ যদি সফর বা অসুস্থতার মতো যুক্তিসঙ্গত কারণে রোজা রেখেও ভেঙে ফেলে, তবে তার ওপর ওই রোজার কেবল কাজা ওয়াজিব হয়। অর্থাৎ সেই একটি রোজার পরিবর্তে অন্য সময়ে একটি রোজা রাখলেই দায়মুক্ত হওয়া যায়।
কিন্তু কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া যদি কেউ স্বেচ্ছায় পানাহার বা যৌনমিলনের মাধ্যমে রোজা ভেঙে ফেলে, তবে তার ওপর কাজা পালনের পাশাপাশি কাফফারা আদায় করাও বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। এটি ইসলামের একটি অত্যন্ত কঠোর ও গুরুত্বপূর্ণ বিধান যা রোজার পবিত্রতা রক্ষায় পালন করতে হয়।রোজা ভঙ্গের কাফফারা আদায়ের প্রাথমিক পদ্ধতি হলো বিরতিহীনভাবে অর্থাৎ মাঝে কোনো দিন বাদ না দিয়ে টানা ৬০ দিন রোজা রাখা। যদি এই ৬০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই কোনো একদিন রোজা ভেঙে ফেলা হয়, তবে গণনা আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হবে।
এভাবে টানা দুই মাস রোজা রাখতে পারলে কাফফারা আদায় হবে। তবে কেউ যদি শারীরিক বার্ধক্য বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণে এভাবে রোজা রাখতে সক্ষম না হন, তবে তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ৬০ জন দরিদ্র ব্যক্তিকে দুই বেলা পেটভরে খাওয়াতে হবে অথবা তাদের খাবারের সমপরিমাণ অর্থ দান করতে হবে।আর্থিক মূল্যের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর নির্ধারিত সদকায়ে ফিতরের সর্বনিম্ন পরিমাণকে এক বেলা খাবারের ভিত্তি ধরা হয়।
চলতি বছরের হিসাব অনুযায়ী যদি একজনের দুই বেলার খাবারের সর্বনিম্ন মূল্য ১১০ টাকা ধরা হয়, তবে ৬০ জনের জন্য মোট ৬৬০০ টাকা দান করলে কাফফারা আদায় হয়ে যাবে। রোজা ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হওয়ায় এটি অবহেলায় বর্জন করা বা ভেঙে ফেলা অত্যন্ত গুনাহের কাজ। তাই কোনো কারণে রোজা ছুটে গেলে বা নষ্ট হলে দ্রুত আল্লাহর কাছে তওবা করে কাজা ও কাফফারা আদায় করা জরুরি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন