এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
শাওয়াল মাসে ওমরাহ পালন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হজ ফরজ হয় না বরং এটি নির্ভর করে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত এবং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর। রাজধানী ঢাকার উত্তরার বিশিষ্ট আলেম মাওলানা জুবায়ের এবং জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী সম্প্রতি এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তাদের মতে কোনো ব্যক্তি যদি হজের মাসগুলোতে অর্থাৎ শাওয়াল, জিলকদ বা জিলহজ মাসে ওমরাহ পালন করেন তবে তার ওপর হজ ফরজ হওয়ার জন্য আর্থিক ও আইনগত সক্ষমতা থাকা অপরিহার্য।
হজের বিধান অনুযায়ী এটি কেবল তখনই বাধ্যতামূলক হয় যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হজের সময় পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার আর্থিক সামর্থ্য থাকে অথবা দেশে ফিরে পুনরায় সৌদি আরব যাওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়।ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী হজের সামর্থ্য বলতে কেবল অর্থ থাকাকেই বোঝায় না বরং এর সঙ্গে শারীরিক সুস্থতা এবং আইনগত অনুমতির বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বর্তমানে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ওমরাহ ভিসায় গিয়ে হজ পর্যন্ত অবস্থান করার কোনো সুযোগ নেই। আল জাজিরা এবং সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী ওমরাহ পালনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের পর দেশ ত্যাগ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
যেহেতু বর্তমান আইন অনুযায়ী একজন ওমরাহ পালনকারী হজের সময় পর্যন্ত সেখানে থাকতে পারেন না এবং নতুন করে হজের অনুমতি বা তাসরিহ পাওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল তাই শুধু ওমরাহ করলেই হজ ফরজ হয়ে যাবে না।হজ ফরজ হওয়ার জন্য পাঁচটি মৌলিক শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী। এই শর্তগুলো হলো মুসলমান হওয়া, মানসিকভাবে সুস্থ থাকা, সাবালক হওয়া, স্বাধীন হওয়া এবং হজের যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের সক্ষমতা থাকা। পবিত্র কোরআনের সূরা আল ইমরানে আল্লাহ তায়ালা সামর্থ্যবানদের ওপর হজ ফরজ করেছেন।
এই সামর্থ্যের সংজ্ঞায় নিজের মৌলিক প্রয়োজন যেমন খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার পর অতিরিক্ত অর্থ থাকাকে বোঝানো হয়েছে। এছাড়া হজে যাওয়ার সময় পরিবারের ভরণপোষণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রেখে যাওয়াও এই সক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতায় হজের অগ্রাধিকার নিয়েও আলেমদের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তির ওপর ঋণ থাকে তবে তাকে আগে ঋণ পরিশোধ করতে হবে কারণ ঋণগ্রস্ত অবস্থায় হজ করা বাধ্যতামূলক নয়।
একইভাবে যদি কারো বিয়ের প্রয়োজন থাকে তবে হজের আগে বিয়ের খরচ মেটানোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। নারীদের ক্ষেত্রে হজের জন্য মাহরাম বা নিকটাত্মীয় সঙ্গে থাকা শর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়। বর্তমান সময়ে সৌদি আরবের কঠোর আইনি বিধিনিষেধের কারণে ওমরাহ পালনকারীরা হজ না করেই ফিরে আসতে বাধ্য হন যা তাদের ওপর থেকে হজের তাৎক্ষণিক বাধ্যবাধকতা সরিয়ে দেয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন