এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
চলমান ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার এই দিনগুলোতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে টেনশন বা মানসিক চাপ কাজ করা খুবই স্বাভাবিক। ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে পরীক্ষা কেবল একটি পার্থিব বিষয় নয়, বরং এটি ধৈর্য, পরিশ্রম ও লক্ষ্য অর্জনের একটি মাধ্যম। ইসলামে প্রতিটি কঠিন কাজে প্রস্তুতির পাশাপাশি মহান আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি কিছু বিশেষ আমল ও দোয়া মানসিক প্রশান্তি ও সফলতায় সহায়ক হতে পারে।পরীক্ষায় সফল হতে হলে প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই, কারণ প্রস্তুতি নেওয়া নবীদের সুন্নত। যার প্রস্তুতি যত স্বচ্ছ, তার ফলাফল তত ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তবে প্রস্তুতির পাশাপাশি মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা ও সাহায্য প্রার্থনা করা ঈমানি দায়িত্ব। অনেক সময় কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ‘সালাতুল হাজত’ বা প্রয়োজন পূরণের নামাজ পড়তেন। পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে পরীক্ষার্থীরা দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর সাহায্য নিয়ে বের হতে পারেন, যা আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
পরীক্ষার হলে প্রবেশের পর অনেকেরই জানা বিষয় ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। স্মরণশক্তি ঠিক রাখতে এবং দুশ্চিন্তা দূর করতে কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত কিছু দোয়া অত্যন্ত কার্যকরী। এর মধ্যে অন্যতম হলো সুরা তোয়াহার ১১৪ নম্বর আয়াতের অংশ ‘রব্বি জিদনি ইলমা’, যার অর্থ হলো হে আমার রব, আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন। এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করলে জ্ঞানের পরিধি ও মেধা বিকশিত হয়। এ ছাড়া হযরত মুসা (আ.) যখন কঠিন দায়িত্ব পেয়েছিলেন, তখন তিনি ‘রব্বিশ রাহলী সদরী ওয়া ইয়াসসিরলী আমরী’ দোয়াটি পড়েছিলেন। এটি বক্ষ প্রশস্ত করতে এবং কাজ সহজ করতে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দোয়া।
হাদিস শরিফে আরও কিছু দোয়ার কথা উল্লেখ আছে যা শক্তি ও সাহস জোগায়। যেমন ‘আল্লাহুম্মা আইয়িদনি বেরুহিল কুদুস’ পাঠের মাধ্যমে পবিত্র আত্মার সাহায্য চাওয়া যায়। আবার জ্ঞানকে উপকারী করা এবং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য মহানবী (সা.) ‘আল্লাহুম্মানফা-নি বিমা আল্লামতানি’ দোয়াটি পাঠ করতেন। এ ছাড়া যে কোনো কঠিন কাজ সহজ করার জন্য ‘রব্বি ইয়াসসির ওয়ালা তুআসসির ওয়াতাম্মিম বিল খাইর’ দোয়াটি সব সময়ের জন্য বিশেষ আমল হতে পারে।
কেবল দোয়াই নয়, বরং ভালো ফলাফলের জন্য কিছু জাগতিক কৌশলও অবলম্বন করতে হয়। ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি উত্তরপত্র সুন্দরভাবে গুছিয়ে লেখা এবং ভালো ছাত্রদের লেখার ধরণ অনুসরণ করা জরুরি। শিক্ষাবিদ ও ধর্মীয় আলেমরা মনে করেন, মেধার সাথে যখন আধ্যাত্মিক শক্তির সংযোগ ঘটে, তখনই সফলতা পূর্ণতা পায়। তাই নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় এবং বর্ণিত দোয়াগুলো পাঠের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন। সর্বোপরি, ফলাফল যাই হোক, মহান আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট থাকাই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন