রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা ও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৮, ২০২৬, ১১:১১ পিএম

কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা ও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

প্রতীকী ছবি

ইসলামি শরিয়তে কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি মহান আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য ও ত্যাগের মহিমান্বিত ইবাদত। প্রতি বছর জিলহজ মাসে সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় কোরবানি আদায় করেন। এই ইবাদতের পেছনে রয়েছে মানুষের ভেতরের অহংকার বিসর্জন দেওয়ার অনন্য বার্তা।

পশুর গোশত বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় মানুষের তাকওয়া।কোরবানি শব্দটি আরবি কুরবান থেকে এসেছে, যার অর্থ নৈকট্য লাভ বা সান্নিধ্য অর্জন। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন সুরায় এই ইবাদতের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

সুরা কাওসারে আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্যে সালাত আদায় ও কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন। মানব সভ্যতার শুরু থেকেই প্রতিটি শরিয়তে কোরবানির বিধান ছিল, যার প্রথম ইতিহাস পাওয়া যায় আদম আলাইহিস সালামের দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের ঘটনায়।

বর্তমানে প্রচলিত কোরবানির মূল ভিত্তি হলো হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামের অবিস্মরণীয় ত্যাগের ইতিহাস। দীর্ঘ দিন নিঃসন্তান থাকার পর বৃদ্ধ বয়সে ইবরাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে নেক সন্তানের জন্য দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করে পুত্র দান করলেও পরবর্তীতে তাঁকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে তাঁর প্রিয় পুত্রকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানি করছেন, যা ছিল মূলত ঐশ্বরিক নির্দেশ।

পিতা ও পুত্র উভয়েই আল্লাহর আদেশের সামনে নিঃশর্তভাবে মাথা নত করেছিলেন। আল্লাহর প্রতি এই অসাধারণ আনুগত্যে সন্তুষ্ট হয়ে শেষ মুহূর্তে একটি দুম্বার মাধ্যমে কোরবানি সম্পন্ন করিয়ে দেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই বিশ্ব মুসলিম সমাজ প্রতি বছর সুন্নতে ইবরাহিমি হিসেবে কোরবানি আদায় করে থাকে।কোরবানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সামাজিক শিক্ষা। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী এই পশুর গোশত দরিদ্র ও আত্মীয়দের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া কর্তব্য, যা সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার বন্ধন দৃঢ় করে। লোকদেখানো মানসিকতা পরিহার করে আন্তরিক তাকওয়া নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে নিজেকে উৎসর্গ করাই কোরবানির মূল অঙ্গীকার।