শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

দুই ভাই মিলে এক ভাগে কোরবানি দেওয়ার ইসলামি বিধান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৯, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম

দুই ভাই মিলে এক ভাগে কোরবানি দেওয়ার ইসলামি বিধান

প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর জন্য কোরবানি একটি অত্যাবশ্যকীয় ইবাদত বা ওয়াজিব বিধান। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ে যার কাছে প্রয়োজন-অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার ওপর কোরবানি করা বাধ্যতামূলক। আজ মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ তারিখে কোরবানির পশুতে অংশীদারিত্বের বিভিন্ন নিয়ম ও এর বৈধতা নিয়ে ইসলামি শরিয়তের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা হয়েছে।

পশুতে শরিক হওয়ার ক্ষেত্রে দুই ভাই মিলে এক ভাগে কোরবানি দেওয়ার প্রচলিত প্রশ্নটি নিয়ে আলেমদের সিদ্ধান্ত এসেছে।ইসলামি আইনবিদদের মতে দুই ভাই বা যেকোনো দুজন ব্যক্তি মিলে একটি পশুর এক ভাগে অংশ নিলে সেই কোরবানি সহিহ বা বিশুদ্ধ হবে না। 

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট ভাগে একাধিক ব্যক্তি শরিক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে এই জটিলতা এড়ানোর জন্য ইসলামি শরিয়তে একটি বৈধ বিকল্প পথ বা সুরত রয়েছে। সে অনুযায়ী যৌথ অংশীদারদের একজন অন্যজনকে তাঁর নির্দিষ্ট টাকার মালিক বানিয়ে দেবেন এবং পরবর্তীতে সেই একক ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে কোরবানি সম্পন্ন করবেন।

এভাবে নিয়ম মেনে সম্পন্ন করা হলে কোরবানি পুরোপুরি বৈধ ও বিশুদ্ধ হবে বলে ঢাকার জামিয়া ইসলামিয়া বায়তুস সালামের সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী নিশ্চিত করেছেন। পশুর ধরন অনুযায়ী শরিকের সংখ্যার ক্ষেত্রেও ইসলামি বিধানে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়া আছে। একটি ছাগল, ভেড়া কিংবা দুম্বা দিয়ে কেবল একজন ব্যক্তিই কোরবানি দিতে পারবেন। এই ধরনের ছোট পশু যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে কোরবানি করেন, তবে কারও কোরবানিই ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী সঠিক হবে না।

অন্যদিকে উট, গরু কিংবা মহিষের মতো বড় পশুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন ব্যক্তি একত্রে শরিক হতে পারবেন। তবে সাতের অধিক কোনো শরিক যুক্ত হলে কারও কোরবানি সহিহ হবে না বলে ফতোয়ার কিতাবসমূহের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। কোরবানি করার সামর্থ্য থাকার পরও যারা এই বিধান পালন থেকে বিরত থাকেন, তাদের জন্য হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। শরিয়তের এই মূলনীতিগুলো মেনে সঠিক পদ্ধতিতে কোরবানি সম্পন্ন করার জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আলেমরা।