মে ১৯, ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে কোরবানি করা একটি অত্যাবশ্যকীয় ইবাদত বা ওয়াজিব বিধান। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ে যার কাছে প্রয়োজন-অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার ওপর কোরবানি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ তারিখে কোরবানির জন্য কেনা পশুর শারীরিক ত্রুটি এবং শিং ভাঙা পশুর বৈধতা নিয়ে ইসলামি শরিয়তের সুনির্দিষ্ট ফতোয়া ও ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা হয়েছে।কোরবানির পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবসময় সুস্থ, সবল ও বড় ধরনের ত্রুটিমুক্ত চতুষ্পদ জন্তু বাছাই করা আবশ্যক।
ইসলামি আইনবিদ ও গবেষকদের মতে কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশুর শিং যদি একেবারে গোড়া থেকে ভেঙে যায় এবং সেই কারণে পশুর মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সেই পশু দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ বা বৈধ হবে না।
তবে শিং ভাঙার কারণে যদি পশুর মস্তিষ্কে কোনো আঘাত না পৌঁছায় এবং কোনো ধরনের গুরুতর ক্ষতি না হয়, তবে সেই পশু দ্বারা কোরবানি করা সম্পূর্ণ জায়েজ। ইসলামি গবেষণা পত্রিকা মাসিক আল কাউসারের বিভিন্ন প্রামাণ্য ফতোয়ার বিবরণ থেকে শিং ভাঙা পশুর এই সুনির্দিষ্ট নিয়মটি নিশ্চিত করা গেছে।এই নীতি অনুযায়ী যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু অংশ ফেটে গেছে কিংবা ভেঙে গেছে, সেটির কোরবানি নিয়মানুযায়ী সঠিক হবে। এমনকি কোনো পশুর যদি জন্মগতভাবেই শিং না গজায় বা একেবারে শিং ছাড়াই জন্ম নেয়, তবে সেই পশু দিয়ে কোরবানি সম্পন্ন করতে ইসলামি শরিয়তে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রধানত চার প্রকারের পশু কোরবানি করা যথেষ্ট বা বৈধ হয় না যার মধ্যে স্পষ্ট অন্ধত্ব, প্রকাশ্য রোগ বা অসুস্থতা, স্পষ্ট পঙ্গুত্ব বা খোঁড়া এবং মজ্জা শুকিয়ে যাওয়া চরম কৃশকায় দুর্বল পশু অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র কোরআন ও রাসুলের সুন্নাহ অনুযায়ী উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা ছাড়া অন্য কোনো বন্য বা অহিংস্র চতুষ্পদ জন্তু দিয়ে কোরবানি করার কোনো অনুমোদন নেই। নিজের জন্য পশু কেনার সময় যে ধরনের শারীরিক ত্রুটি মানুষ অপছন্দ করে, কোরবানি করার ক্ষেত্রেও সেই ধরনের পশু পরিহার করার জন্য হাদিসে বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শরিয়তের এই মূলনীতিগুলো মেনে সঠিক ও নিখুঁত পদ্ধতিতে কোরবানি সম্পন্ন করার জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামিক স্কলাররা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন