রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

স্ত্রীর দেনমোহর বাকি থাকলে কি কোরবানি দেওয়া যাবে? জেনে নিন শরীয়তের বিধান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ২৩, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

স্ত্রীর দেনমোহর বাকি থাকলে কি কোরবানি দেওয়া যাবে? জেনে নিন শরীয়তের বিধান

ইসলামি ফিকাহর গ্রন্থ

কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম সমাজে স্ত্রীর দেনমোহর বাকি থাকলে কি কোরবানি দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। ইসলামি আইন ও ফিকাহ শাস্ত্রের আলোকে এই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। শরীয়তের দৃষ্টিতে দেনমোহর ও কোরবানি সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি স্বতন্ত্র বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

দেনমোহর হচ্ছে স্ত্রীর প্রধান প্রাপ্য অধিকার এবং কোরবানি হলো একটি আর্থিক ইবাদত।যতদিন পর্যন্ত স্বামী তাঁর স্ত্রীর নির্ধারিত দেনমোহর পুরোপুরি পরিশোধ না করেন, ততদিন তা স্বামীর ওপর এক প্রকার দুর্বল ঋণ হিসেবে গণ্য থাকে। 

ফিকহের বিখ্যাত কিতাব বাদায়েউস সানায়ে ও রদ্দুল মুহতার-এর বর্ণনা অনুযায়ী, এই ঋণ যেহেতু কোনো সরাসরি ধন-সম্পদ বিনিময়ের মাধ্যমে তৈরি হয়নি, তাই এটি স্বামীর মালিকানাধীন বর্তমান নগদ অর্থের ওপর কোনো সরাসরি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে না। অর্থাৎ স্ত্রীর দেনমোহর বাকি থাকলেও স্বামীর কোরবানি দেওয়া সম্পূর্ণ জায়েজ। 

তবে এ ক্ষেত্রে স্বামীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে কি না, তা মূলত দুটি নির্দিষ্ট অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।প্রথমত কোরবানির দিনগুলোতে জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় খরচের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ স্বামীর মালিকানায় থাকতে হবে।যদি সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা সমমূল্যের নগদ অর্থ থাকে, তবে তাঁর ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। দ্বিতীয়ত স্ত্রীর দেনমোহরের দাবি যদি তাৎক্ষণিক হয় এবং তা বাদ দেওয়ার পর স্বামীর কাছে আর কোনো অতিরিক্ত সম্পদ উদ্বৃত্ত না থাকে, তবে তাঁর ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। 

ইসলামি ফিকাহর নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ বাদায়েউস সানায়ের দ্বিতীয় খণ্ডের ৩৯২ পৃষ্ঠায় এই বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।আলেমদের মতে, দেনমোহর বাকি রেখে কোরবানি দিলে তা নিশ্চিতভাবেই আদায় হয়ে যাবে।তবে সামর্থ্য থাকার পরও স্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ অধিকার বছরের পর বছর আটকে রাখা মোটেও উচিত নয়। কোরবানির মতো মহিমান্বিত ইবাদতের প্রস্তুতির পাশাপাশি স্ত্রীর প্রাপ্য দ্রুত পরিশোধ করে দেওয়ার ব্যাপারে স্বামীদের আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।