রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠের ফজিলত ও গুরুত্ব

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১০, ২০২৬, ১১:২৭ এএম

জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠের ফজিলত ও গুরুত্ব

সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন জুমাবার। ইসলামি রীতিতে এই দিনকে মুসলমানদের ঈদের দিন হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ এ দিনে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত নাজিল হয়। জুমার দিনের ফজিলতপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পবিত্র কোরআনের সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার দিনে এই সুরাটি পাঠের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

হাদিসে সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনকে সর্বোত্তম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।পবিত্র কোরআনের ১৮তম সুরা কাহাফে ১১০টি আয়াত রয়েছে। হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন এই সুরা তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বা আলো বিচ্ছুরিত হবে। এটি কেবল তিলাওয়াতকারীর জন্য নয়, বরং তার আধ্যাত্মিক জগতের জন্য এক বিশেষ রহমত হিসেবে কাজ করে। 

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, সুরা কাহাফ পাঠ করলে আট দিন পর্যন্ত ব্যক্তি সব ধরনের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকে এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকেও সুরক্ষা পায়।সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করার বিশেষ ফজিলতও হাদিসে এসেছে, যা দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। 

হযরত বারা ইবনে আজিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এক ঘটনায় জানা যায়, রাতে সুরা কাহাফ তিলাওয়াতের সময় আল্লাহর বিশেষ রহমত বা সাকিনা নাজিল হয়, যা চারপাশের পরিবেশকে শান্ত ও আলোকিত করে তোলে। কিয়ামতের দিন এই তিলাওয়াত ব্যক্তির জন্য নূর হিসেবে উপস্থিত হবে বলে আশা করা যায়।

মুমিনের জন্য জুমার দিনে শুধু নামাজ আদায় করাই যথেষ্ট নয়, বরং কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ শরিফ পাঠ ও জিকিরের মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করা উচিত। সুরা কাহাফ পাঠ করার মাধ্যমে একজন মুমিন দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, আল্লাহর রহমত এবং নানা রকম পার্থিব ও আধ্যাত্মিক ফিতনা থেকে নিরাপত্তার সুসংবাদ পেতে পারেন। এই আমলটি নিয়মিত করলে হৃদয়ে ঈমানি নূর বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভে সহায়ক হয়।