জুলাই ১২, ২০২৬, ১০:৫২ এএম
বৃষ্টি মহান আল্লাহর অন্যতম বড় নিয়ামত। এর মাধ্যমে মৃত ভূমি জীবিত হয়, ফসল উৎপন্ন হয় এবং মানুষ ও প্রাণীকুল জীবন ধারণের উপকরণ পায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আকাশ থেকে বর্ষণ করা বৃষ্টি কল্যাণকর এবং তা দ্বারা সৃষ্টি হয় উদ্যান ও শস্য। তবে কখনো কখনো এই রহমতের বৃষ্টি অতিবৃষ্টিতে রূপ নেয়, যা বন্যা বা জলাবদ্ধতার মাধ্যমে মানুষের জন্য পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের করণীয় কী, সে বিষয়ে ইসলামি দিকনির্দেশনা স্পষ্ট।
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।অতিবৃষ্টিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ অবশ্যই মানুষকে পরীক্ষা করেন ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মালের ক্ষতির মাধ্যমে। ধৈর্যশীলদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে। অতএব, অতিবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি, ফসল বা সম্পদের ক্ষতি হলে ভেঙে না পড়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদানের আশা রাখা প্রয়োজন।
রাসুলুল্লাহ সা.-এর বাণী অনুযায়ী, মুমিনের কোনো অবস্থাই তার জন্য লোকসানের নয়; বরং আনন্দ পেলে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে তা কল্যাণকর হয়, আর দুঃখকষ্টে আক্রান্ত হলে ধৈর্য ধারণ করে — যা তার জন্য কল্যাণকর।বৃষ্টি শুরু হলে মহানবী সা.-এর শেখানো দোয়া পড়া সুন্নত। তিনি বৃষ্টি নেমে এলে পড়তেন, আল্লাহুম্মা সইয়্যিবান নাফিআ, যার অর্থ হলো হে আল্লাহ! মুষলধারে কল্যাণকর বৃষ্টি দাও। আর যদি অতিবৃষ্টির কারণে মানুষের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিত, তখন তিনি দোয়া করতেন, হে আল্লাহ! আমাদের আশেপাশে, আমাদের ওপর নয়। আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা।
বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব। অতিবৃষ্টিতে অনেক মানুষ খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসা সংকটে পড়েন। এ সময় প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে, আল্লাহও ততক্ষণ সেই বান্দার সাহায্য করেন। দুর্যোগের সময় গুজব থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। অযাচাইকৃত কোনো তথ্য প্রচার বা বিশ্বাস করা নিষেধ। অতিবৃষ্টি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃত ক্ষমতার মালিক আল্লাহ। তাই এ সময়ে বেশি বেশি তওবা, ইস্তিগফার ও আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন