রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসলাম, আত্মসমর্পণ ও চূড়ান্ত হেদায়েত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৫, ১০:৩২ এএম

ইসলাম, আত্মসমর্পণ ও চূড়ান্ত হেদায়েত

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে, ‘ইসলাম’ শব্দের মূল অর্থ হলো আত্মসমর্পণ। এটি কেবল একটি বিশ্বাস নয়, বরং মহান আল্লাহর নির্দেশের সামনে পরিপূর্ণভাবে, দ্বিধাহীন চিত্তে নিজেকে সমর্পণ করার একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।এই আত্মসমর্পণের উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত হিসেবে পবিত্র কোরআনে হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর ঘটনাকে উল্লেখ করা হয়। আল্লাহপাক যখন তাঁকে পরিপূর্ণভাবে সমর্পিত হওয়ার নির্দেশ দেন, তিনি কোনো প্রশ্ন উত্থাপন না করেই জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমি রাব্বুল আলামিন, দ্যুলোক-ভূলোক সব কিছুর পালনকর্তার সামনে সমর্পিত হলাম।’ (সুরা বাকারাহ, আয়াত: ১৩১)। এই একনিষ্ঠতাই ইসলামের মূল ভিত্তি।

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই আত্মসমর্পণ মানব স্বভাবের বা ‘ফিতরাত’-এর মূল চাহিদা। কোরআনের বর্ণনায়, আল্লাহ মানুষকে যে স্বভাবের ওপর সৃষ্টি করেছেন, ইসলাম সেই স্বভাবেরই অনুকূল। (সুরা রুম, আয়াত: ৩০)। এ কারণেই ইসলামকে ‘আল্লাহর রং’ (সিবগাতাল্লাহ) হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে। (সুরা বাকারাহ, আয়াত: ১৩৮)। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়, আল্লাহর বিধান মানুষের স্বভাবের সাথে এমনভাবে মিশে যায়, যেমন রং কোনো বস্তুর কণা কণা পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত থাকে।

ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তির কাছে ইসলামের কোনো বিধানকে অস্বাভাবিক বা স্বভাবের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হয়, তখন তা মূল ধর্মের সমস্যা নয়, বরং ব্যক্তির নিজস্ব উপলব্ধির বিভ্রম বা 'স্বভাব-বিচ্যুতি' হিসেবে গণ্য করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যেমন কোনো রোগে আক্রান্ত হলে মানুষের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায় এবং মিষ্টি খাবারও তিতা লাগতে পারে, তেমনি স্বভাবের বিকৃতি ঘটলে সহজ ধর্মীয় বিধানকেও কঠিন মনে হতে পারে।

ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন, ইসলাম এবং প্রকৃত সত্য একই জিনিস। বিজ্ঞান যখন তার অনুসন্ধানের মাধ্যমে চূড়ান্ত সত্যে পৌঁছায়, তখন তা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক হয় না, কারণ সত্য এক ও অদ্বিতীয়। সংঘর্ষ কেবল সেখানেই দেখা দেয়, যেখানে মানব আবিষ্কৃত জ্ঞান বা দর্শন সত্যের পূর্ণ স্তরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।

চূড়ান্তভাবে, আল্লাহর প্রতি এই নিঃশর্ত আত্মসমর্পণকেই ইসলামে ‘হেদায়েত’ বা চূড়ান্ত পথনির্দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোরআনে তাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, 'বলো, আল্লাহর পথই তো পথ আর আমরা আদিষ্ট হয়েছি সমর্পিত হতে রাব্বুল আলামিনের হুজুরে।' (সুরা আনআম, আয়াত: ৭১