অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ১২:৫৬ পিএম
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা প্রথম নামাজের হিসাব নেবেন। বিশেষ করে, ফজরের নামাজ আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় ইবাদতগুলোর একটি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক মুসলমানের জন্যই ভোরের এই সময়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।ইসলামী স্কলাররা বলছেন, সামান্য কিছু অভ্যাস ও নিয়ম মেনে চললে ফজরে জাগ্রত হওয়া মোটেও কঠিন কোনো কাজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন মানসিক প্রস্তুতি এবং কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
ফজরে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হয় মূলত রাতের প্রস্তুতি দিয়ে। মহানবী (সা.) মাগরিবের নামাজের আগে ঘুমানো এবং ইশার নামাজের পরে অনর্থক কথা বলা বা রাত জাগা অপছন্দ করতেন, যা আবু বারযা (রা.) বর্ণিত হাদিসেও (সুনানে তিরমিজি, ১৬৮) উল্লেখ আছে। তাই ফজরে ওঠার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া। এর পাশাপাশি পবিত্র অবস্থায়, অর্থাৎ অজু করে ঘুমানো উচিত। এ সময় ঘুমানোর আগে নির্ধারিত দোয়া পাঠ করা এবং সুন্নাহ অনুযায়ী ডান কাতে শোয়া ফজরে ওঠার জন্য খুবই সহায়ক।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দৃঢ় সংকল্প বা নিয়ত করা। ঘুমাতে যাওয়ার সময় মনে মনে স্থির করতে হবে যে, 'আমি অবশ্যই ফজরের নামাজ জামাতে পড়ব।' যদি মনে গাফিলতি থাকে বা আন্তরিক ইচ্ছা দুর্বল হয়, তবে জেগে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে।
জেগে ওঠার প্রক্রিয়াটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই অ্যালার্ম বাজার পর বা ঘুম ভাঙার পর অলসতা করে আবার শুয়ে পড়েন। এই অলসতা দূর করতে একটি অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে এবং সেটি বিছানা থেকে কিছুটা দূরে রাখা উচিত, যেন তা বন্ধ করার জন্য হলেও বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে হয়।
ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহকে স্মরণ করা উচিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, মানুষ যখন ঘুমায়, শয়তান তার মাথার পেছনে তিনটি গিঁট দেয়। যদি সে জেগে ওঠে এবং আল্লাহকে স্মরণ করে, তবে একটি গিঁট খুলে যায়। যদি অজু করে, দ্বিতীয়টি খুলে যায়। আর যদি নামাজ পড়ে, সব গিঁট খুলে যায়। তখন সে উদ্যমী ও প্রফুল্ল হয়; অন্যথায় সে অলস ও মনমরা অবস্থায় জাগে। (সহিহ বুখারি, ১১৪২)। আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, নবী করিম (সা.) আজান শোনার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত উঠে পড়তেন, কোনো অলসতা করতেন না।
পারিবারিক সহযোগিতাও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। পরিবারের সদস্যদের একে অপরকে নামাজের জন্য ডেকে তোলা একটি পুণ্যময় কাজ। আল্লাহ তায়ালা সুরা ত্বাহা-এর ১৩২ নম্বর আয়াতে পরিবারকে নামাজের আদেশ দিতে বলেছেন। এমনকি হাদিসে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের মুখে পানি ছিটিয়ে হলেও নামাজের জন্য জাগানোর প্রশংসা করা হয়েছে। (আবু দাউদ, ১৩০৮)।
দিনের বেলার একটি অভ্যাসও ফজরে উঠতে সাহায্য করে, তা হলো দুপুরে অল্প সময় বিশ্রাম নেওয়া বা 'কায়লুলা' করা। রাসুল (সা.) এই বিশ্রামকে উৎসাহিত করেছেন, কারণ এটি শরীরকে সতেজ করে এবং রাতে ইবাদতের জন্য ওঠা সহজ করে।
সর্বোপরি, ফজরে উঠতে না পারার অন্যতম বড় আধ্যাত্মিক কারণ হলো পাপ বা গুনাহে লিপ্ত থাকা। গুনাহ মানুষের হৃদয়কে কঠিন ও অন্ধকার করে দেয়, ফলে ইবাদতের আগ্রহ কমে যায় এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হয়ে পড়ে। সহিহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, পাপ হৃদয়কে কালো দাগে পূর্ণ করে উল্টা কলসির মতো বানিয়ে ফেলে, যা ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে পারে না। তাই ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য পাপ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা অপরিহার্য।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন