জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
টানা ছয় হারের দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে বিপিএলে কক্ষপথে ফিরেছে নতুন দল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৪১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে আসরে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা। রোববার অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ১৮৫ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঢাকা মাত্র ১৪৩ রানেই গুটিয়ে যায়। শুরুতেই পাকিস্তানি পেসার ইহসানউল্লাহর গতির তোপে মাত্র ১৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মোহাম্মদ মিঠুনের দল।
সেখান থেকে অধিনায়ক মিঠুনের ৩৩ এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ৩৪ রানের ইনিংসে পরাজয়ের ব্যবধান কেবল কমেছে কিন্তু হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। নোয়াখালীর পক্ষে হাসান মাহমুদ, ইহসানউল্লাহ, মেহেদী হাসান রানা ও মোহাম্মদ নবী প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
তবে এই ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিল মাঠের ভেতরের এক বিরল ও ঐতিহাসিক ঘটনা। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এই প্রথম বাবা ও ছেলেকে একসঙ্গে একই দলের হয়ে মাঠে নামতে দেখা গেল।
আফগান তারকা মোহাম্মদ নবী ও তার ছেলে হাসান ইসাখিল নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে ইতিহাস গড়েন। ম্যাচের আগে বাবার হাত থেকেই নিজের অভিষেক ক্যাপ গ্রহণ করেন তরুণ ইসাখিল। শুধু দলেই জায়গা পাননি বরং ব্যাট হাতে অভিষেকেই রীতিমতো তান্ডব চালিয়েছেন তিনি। মাত্র ৮ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও তার ৯২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি ছিল সাতটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় সাজানো। ১৫৩ স্ট্রাইকরেটের এই অনবদ্য ইনিংসটিই নোয়াখালীকে ১৮৪ রানের বিশাল সংগ্রহ এনে দেয়।
ইসাখিলের এই রাজকীয় অভিষেকের দিনে ওপেনার সৌম্য সরকারও ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি খেলেন ৪৮ রানের দায়িত্বশীল এক ইনিংস। অন্যদিকে ছেলে যখন মাঠ মাতাচ্ছিলেন তখন অভিজ্ঞ বাবা মোহাম্মদ নবী করেন ১৭ রান এবং বল হাতেও নেন গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারটি নিজের ঝুলিতে ভরেন হাসান ইসাখিল।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জন্য এটি কেবল একটি জয় নয় বরং আসরে টিকে থাকার বড় অনুপ্রেরণা। শুরুতে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকলেও টানা দুই জয়ে তারা এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে। অন্যদিকে টানা পরাজয়ে ঢাকার প্লে-অফ সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়ল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন