জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ১০:১০ পিএম
বিপিএলের গুরুত্বপূর্ণ এলিমিনেটর ম্যাচে শেষ বলের অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল সিলেট টাইটান্স। জয়ের জন্য শেষ বলে যখন ৬ রান প্রয়োজন, তখন ফাহিম আশরাফের ওয়াইড ইয়র্কার লেংথের বলকে গ্যালারিতে পাঠিয়ে উৎসবে মাতেন ক্রিস ওকস। ৩ উইকেটের এই নাটকীয় জয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে পৌঁছে গেল সিলেট।
অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্টে দাপট দেখানো রংপুর রাইডার্সকে বিদায় নিতে হলো আসর থেকে।ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সিলেটের বোলিং তোপে পড়ে রংপুর। খালেদ আহমেদের বিধ্বংসী স্পেলে মাত্র ১১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে তারা। রংপুরের টপ অর্ডারের কোনো ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
তাওহিদ হৃদয়, লিটন দাস ও ডেভিড মালান সাজঘরে ফেরেন দ্রুত। কাইল মায়ার্সও মাত্র ৮ রান করে আউট হলে খাদের কিনারে চলে যায় রংপুর।
শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৩৩ ও খুশদিল শাহর ৩০ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১১ রানের অল্প পুঁজি পায় রংপুর। সিলেটের হয়ে খালেদ আহমেদ মাত্র ১৪ রান দিয়ে নেন ৪টি উইকেট।১১২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সিলেট টাইটান্সও চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয়। মাত্র ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচটি কঠিন করে তোলে তারা। তবে পঞ্চম উইকেটে স্যাম বিলিংস ও মেহেদি হাসান মিরাজের ৫০ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে সিলেট।
মিরাজ ১৮ রান করে ফিরলেও বিলিংস ২৯ রানের ধীরস্থির ইনিংস খেলে জয়ের পথ তৈরি করেন। কিন্তু বিলিংস ও মঈন আলী দ্রুত ফিরে গেলে শেষ ২ ওভারে ম্যাচটি রূপ নেয় স্নায়ুযুদ্ধে। শেষ ২ বলে যখন ৭ রান প্রয়োজন, তখন খালেদ আহমেদ এক রান নিয়ে স্ট্রাইক দেন ওকসকে। আর শেষ বলে ছক্কা মেরে নায়ক বনে যান ওকস।সিলেটের এই জয়ে পুরো ডাগআউটে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়।
রংপুরের আলিস আল ইসলাম ২ উইকেট নিলেও শেষ হাসি হাসতে পারেনি তার দল। দুর্দান্ত বোলিংয়ে রংপুরের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া খালেদ আহমেদ ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন। অল্প রানের ম্যাচেও বোলারদের দাপট এবং ব্যাটারদের স্নায়ুর লড়াই বিপিএলের এই এলিমিনেটরকে স্মরণীয় করে রাখল। এখন দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জয় পেলেই ফাইনালের মঞ্চে দেখা যাবে সিলেট টাইটান্সকে। পরাজয়ের হতাশায় টুর্নামেন্ট শেষ করা রংপুর রাইডার্সকে এখন পরবর্তী আসরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন