মার্চ ১৩, ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
আগামী ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে খুব বেশি সময় বাকি না থাকলেও ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরম অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করার পরামর্শ দেন।
ট্রাম্পের এই বার্তার পর ইরান ফুটবল দলের পক্ষ থেকে পাল্টা জবাব দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। ইরানের দাবি তারা যোগ্যতা অর্জন করেই এই বৈশ্বিক আসরে জায়গা করে নিয়েছে এবং ফিফা পরিচালিত এই টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বাদ দেওয়ার এখতিয়ার কোনো একক দেশের নেই।
ইরান ফুটবল দল তাদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট করেছে যে ফিফা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং এর নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশ রাজনৈতিক কারণে অন্য দেশের অংশগ্রহণ ঠেকাতে পারে না। তারা আরও জানায় যে ইরান অত্যন্ত সফলভাবে যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলোর তালিকায় উপরের দিকে ছিল।
উল্টো স্বাগতিক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে কি না সেই সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে তেহরান। উল্লেখ্য যে ২০২৬ সালের জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে এই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে এবং সূচি অনুযায়ী ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে খেলার কথা রয়েছে।বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের দুটি ম্যাচ থাকায় মাঠের ভেতরে ও বাইরে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা করছে মার্কিন প্রশাসন। সেখানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ইরানির উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এর আগে জানিয়েছিলেন যে ট্রাম্প ইরানকে স্বাগত জানানোর বিষয়ে ইতিবাচক ছিলেন। কিন্তু ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দুনিয়ামালি সম্প্রতি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে ইরান ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে না। যদিও অতীতে যুগোস্লাভিয়া বা রাশিয়ার মতো দলগুলোকে ফিফা নিষিদ্ধ করেছিল তবে রাজনৈতিক কারণে স্বেচ্ছায় নাম প্রত্যাহারের ঘটনা ফুটবল ইতিহাসে বিরল। এখন পর্যন্ত ফিফা বা আন্তর্জাতিক ফুটবল সংশ্লিষ্টরা এই জটিল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন