জুন ২৬, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শক্তিশালী জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ইকুয়েডর। ঐতিহাসিক এই জয়ের আনন্দে দেশজুড়ে ব্যাপক উৎসবের আবহ তৈরি হওয়ায় পরের দিনকে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া।নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের এই জয় ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট নোবোয়া খেলোয়াড় ও কোচদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নানামুখী সমালোচনা, অপমান আর কঠিন সময়ের পরও যারা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এবং পুরো দেশে এই বিশাল আনন্দ এনে দিয়েছেন, তাদের প্রতি দেশ কৃতজ্ঞ। এই ঐতিহাসিক অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতেই মূলত এই রাষ্ট্রীয় ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অথচ ম্যাচের শুরুটা ইকুয়েডরের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। মাত্র দ্বিতীয় মিনিটে গোল করে জার্মানিকে এগিয়ে নেন লেরয় সানে। তবে গোলের ঠিক আগে আলেক্সান্ডার পাভলোভিচ ইকুয়েডরের মিডফিল্ডার পেদ্রো ভিতেকে ফাউল করেছিলেন বলে তীব্র প্রতিবাদ ওঠে। ইকুয়েডরের খেলোয়াড়রা রেফারির কাছে ফাউলের দাবি জানালেও মাঠের রেফারি গোল বহাল রাখেন এবং ভিডিও সহকারী রেফারিও এই সিদ্ধান্তে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি।
সেই প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আফ্রিকান দলটি। ম্যাচের সাত মিনিটের মাথায় ভিতে বল কেড়ে নেওয়ার পর নিলসন আঙ্গুলো বক্সের বাইরে থেকে এক দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করে সমতা ফেরান। এটি ছিল এই বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের প্রথম গোল। পরবর্তীতে দ্বিতীয়ার্ধের ৭৭ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বল হেডের সাহায্যে জালে ঠেলে দিয়ে দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন গনজালো প্লাতা।
উল্লেখ্য, জার্মানি এই ম্যাচে মাঠে নামার আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করে এসেছিল। অন্যদিকে ইকুয়েডর আগের দুই ম্যাচে একটিও গোল করতে না পেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল। সেখান থেকে এই জয় তাদের শেষ বত্রিশের টিকিট এনে দিল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন