সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জাপানের কাছে যেভাবে হারতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ২৯, ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম

জাপানের কাছে যেভাবে হারতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের রাউন্ড অব থার্টি টুর অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং এশিয়ার শক্তিশালী দল জাপান। ফুটবল র‍্যাঙ্কিং, গৌরবময় ইতিহাস ও মাঠের স্কোয়াড শক্তিতে লাতিন আমেরিকার সেলেসাওরা স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও জাপানের সাম্প্রতিক গতিময় ফর্ম ও দুর্দান্ত রণকৌশল ম্যাচটিকে বেশ কঠিন করে তুলতে পারে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন। 

দলগত বোঝাপড়া এবং নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলার কারণে আজ রাতে মাঠে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে।কাগজে-কলমে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও মাঠের সমীকরণে এশিয়ান ব্লু সামুরাইরা এখন যেকোনো পরাশক্তিকে বধ করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।জাপানের প্রধানতম শক্তি হলো তাদের উচ্চ আগ্রাসী বা হাই-প্রেসিং ফুটবল কৌশল, যার মাধ্যমে তারা মাঠের প্রতিটি অংশে প্রতিপক্ষকে প্রতিনিয়ত প্রচণ্ড চাপে রাখে এবং দ্রুত বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। 

তাদের কার্যকরী উইং-ব্যাক এবং মাঝমাঠের গতিময় আক্রমণের কারণে ব্রাজিলের চেনা ও স্বাভাবিক বিল্ড-আপ খেলা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর অধীনে জাপানি দলের খেলোয়াড়দের অবিশ্বাস্য স্ট্যামিনা এবং বিধ্বংসী কাউন্টার-অ্যাটাকিং গতি ফুটবল বিশ্বে ইতিমধ্যে সাড়া জাগিয়েছে। নিজেদের রক্ষণভাগে পজিশন ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার সুযোগ দিয়ে বল কেড়ে নেওয়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তারা প্রতি-আক্রমণে চলে যায়, যা মাত্র ৩০ শতাংশ পজিশন নিয়েও ম্যাচ জেতার ক্ষমতা রাখে।

ব্রাজিলিয়ান ফুল-ব্যাকরা যখন আক্রমণে ওপরে উঠে যান, তখন তাদের পেছনে তৈরি হওয়া খালি জায়গা ব্যবহার করে জাপানের ক্ষুরধার উইঙ্গাররা দ্রুত ভীতি ছড়াতে পারেন। একই সাথে জাপানি রক্ষণভাগের জমাট ‘লো-ব্লক’ কৌশল ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বা লুকাস পাকেতার মতো তারকাদের ড্রিবলিং ও ক্রিয়েটিভিটিকে বোতলবন্দি করার জন্য যথেষ্ট। মাঝমাঠের খেলোয়াড়রা বক্সের সামনের গুরুত্বপূর্ণ হাফ-স্পেস ও পাসিং লেনগুলো এমনভাবে বন্ধ করে রাখেন যে প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডদের জন্য বক্সে ঢোকা বা শট নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কোচের ৩-৪-২-১ ফরমেশনের বিশেষ ট্যাকটিক্যাল ট্র্যাপ ব্রাজিলের ৪-২-৩-১ বা আক্রমণাত্মক ডায়মন্ড ফরমেশনের বিরুদ্ধে ডিফেন্সে একটি বিশাল বাড়তি সুবিধা তৈরি করে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো জাপান দল কোনো একক অতি-তারকার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর মোতেও নির্ভরশীল নয়। দলে ইনজুরির কারণে বড় তারকাদের অনুপস্থিতি থাকলেও তাদের দলগত বোঝাপড়া এবং কঠোর শৃঙ্খলা পুরো দলকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে। জাপানি স্কোয়াডের সিংহভাগ ফুটবলার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা ও বুন্দেসলিগার মতো ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হওয়ায় তারা মানসিক ও কৌশলগত দিক থেকে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে অভ্যস্ত। ফলে আজকের নকআউট ম্যাচে কাগজে-কলমে ব্রাজিল আড়ালে ফেভারিট হলেও জাপানের গতিময় ও সুশৃঙ্খল দলীয় ফুটবল বিশ্বমঞ্চে আজ এক নতুন ইতিহাস লিখে দিতে পারে।