জুলাই ৪, ২০২৬, ১১:২২ এএম
মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজতেই নীল জার্সির ফুটবলাররা কেউ হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন, কেউ মুখ ঢাকলেন দুই হাতে। চোখের জল থামানোর চেষ্টা করেও পারলেন না। তবে সব চোখের জল শুধুই কান্না নয়, এর পেছনে মিশে আছে অদম্য সাহস ও গর্বের গল্প। বিশ্বকাপের এই ম্যাচের ফলাফল বলছে কেপ ভার্দে হেরেছে, কিন্তু ফুটবল কি শুধু স্কোর লাইনের গল্প?কেপ ভার্দে বিদায় নিয়েছে, কিন্তু ম্যাচ শেষে মনে হলো বিশ্বকাপ যেন তাদের বিদায় জানাতে রাজি নয়।
মাত্র পাঁচ লাখ মানুষের এই দেশটি প্রমাণ করে গেছে, ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৭তম স্থানে থাকা দলটি ইতিহাস, অর্থ কিংবা পরিকাঠামো—কোনো দিক থেকেই আর্জেন্টিনার ধারেকাছে ছিল না। কিন্তু ১২০ মিনিট শেষে এই দলটিই মাথা উঁচু করে মাঠ ছেড়েছে। তাদের রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য, গোলরক্ষক ভোজিনিয়া আবারও মনে করিয়ে দিলেন অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। একের পর এক সেভ করে তিনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বারবার হতাশ করেছেন।
আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেলেও কেপ ভার্দে পিছু হটেনি। তারা দারুণ দাপটের সঙ্গে ম্যাচে ফিরেছে। সমতা ফেরানোর পর অতিরিক্ত সময়ে পিছিয়ে পড়েও হার মানেনি দলটি। কাবরালের গোলটি ছিল চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সহায় না হওয়ায় আত্মঘাতী গোলে রূপকথার সমাপ্তি ঘটে, তবে তাদের এই লড়াই ছিল বড় সাহসের গল্প।
স্কটল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার জেমস ম্যাকফ্যাডেন ঠিকই বলেছেন, সাহস ও অদম্য বিশ্বাসের এক অসাধারণ উদাহরণ রেখে গেছে দলটি। ট্রফি না জিতলেও তারা ফুটবলের ইতিহাসে নিজেদের জন্য স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করে নিয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন