সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

মিষ্টি কুমড়ার নতুন হাইব্রিড জাত উদ্ভাবন, বীজ পৌঁছাবে কৃষকের কাছে

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম

মিষ্টি কুমড়ার নতুন হাইব্রিড জাত উদ্ভাবন, বীজ পৌঁছাবে কৃষকের কাছে

দক্ষিণাঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী সারা বছর চাষযোগ্য উচ্চ ফলনশীল মিষ্টি কুমড়ার নতুন একটি হাইব্রিড জাত উদ্ভাবন করেছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। পটুয়াখালীর লেবুখালীতে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ পাঁচ বছরের গবেষণায় এই সাফল্য অর্জন করেছেন।

নতুন এই জাতের বীজ কৃষকের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে গবেষণা কেন্দ্রে ইতিমধ্যে মাচা তৈরি করে বীজ উৎপাদনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, অনুমোদনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হলে খুব দ্রুতই বীজটি মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

গবেষণার বিস্তারিত তুলে ধরে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাসিরা আক্তার জানান, ২০২০ সালে এই জাতটি উদ্ভাবনের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি জাত তৈরি করা যাতে ফলের সংখ্যা বেশি হবে, কিন্তু প্রতিটি কুমড়ার আকার থাকবে তুলনামূলক ছোট। সাধারণ মিষ্টি কুমড়ার শাঁস পাতলা এবং ভেতরে বীজের ফাঁকা অংশ বা সিড ক্যাভিটি বেশি থাকে। এই জাতটিতে ভেতরের বীজের গহ্বর ছোট রেখে শাঁস উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পুরু ও স্বাদ মিষ্টি করা হয়েছে।

শুরুতে ছয়টি মিষ্টি কুমড়ার প্রজনন লাইন নিয়ে হাফ ডায়ালিল পদ্ধতির মাধ্যমে মোট ১৫টি সংকরায়ন বা ক্রস করা হয়। সেখান থেকে ১৪টি ক্রস সংমিশ্রণে সফল বীজ মেলে। সেই বীজ পরবর্তী বছর মাঠে বপন করা হয়। মাঠপর্যায়ে ফলের সংখ্যা, মিষ্টতা ও আকারের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে ‘বি ক্রস ই’ এবং ‘বি ক্রস ডি’ লাইন দুটি নির্বাচন করা হয়।

পরীক্ষামূলক পর্যায়ে প্রচলিত বাণিজ্যিক জাত ‘সুইটি’র সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, নতুন উদ্ভাবিত লাইনটি মাঠের ফলনে অনেক বেশি কার্যকর।

পরবর্তী তিন বছর সারা দেশে আঞ্চলিক ট্রায়ালে সফল পারফরম্যান্সের পর ‘বি ক্রস ই’ লাইনটিকে সরকারিভাবে ‘বারি হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়া চার’ নামে অনুমোদনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, জাতটি আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত হলে দেশের সবজি চাষে বড় পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বাজারে যখন শাকসবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকে, তখন এই জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করে কৃষকরা বাড়তি মুনাফা অর্জন করতে পারবেন।

একটি পরিবারের চাহিদার কথা বিবেচনা করলে এর ওজন রাখা হয়েছে সুবিধাজনক মাত্রায়। প্রতিটি কুমড়ার গড় ওজন হবে প্রায় সাড়ে চার কেজি, যা সাধারণ ভোক্তাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হবে বলে গবেষকেরা মনে করছেন।