জুলাই ১৬, ২০২৬, ১২:২৪ এএম
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে নিয়ে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মেগা লড়াইয়ের আগে আর্জেন্টাইন এই গোলরক্ষককে নিয়ে ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমের এমন বিশ্লেষণ বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।দশটি কৌশলকে তারা নোংরা হিসেবে আখ্যা দিলেও এটি মূলত তাদের নিজস্ব ভয়কেই সামনে এনেছে।
প্রকাশিত ওই তালিকায় পেনাল্টির সময় প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো এবং কথার মাধ্যমে উসকানি দেওয়ার বিষয়টি সবার আগে রাখা হয়েছে। এছাড়া বল ছাড়তে দেরি করা, বল দূরে ছুড়ে দেওয়া, রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ করা এবং অতিরিক্ত উদযাপন করার বিষয়টিও উঠে এসেছে। পাশাপাশি চোখের দৃষ্টিতে চাপ সৃষ্টি করা, নিজের উচ্চতা ব্যবহার করা, হিসাব করে রিবাউন্ড তৈরি করা ও ইচ্ছাকৃতভাবে খলনায়কের ভূমিকা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এমন বিশ্লেষণ সাধারণত সেই গোলরক্ষকদের নিয়েই করা হয়, যারা প্রতিপক্ষের মনে সত্যিকারের ভীতি ছড়াতে সক্ষম।
এই তালিকা প্রমাণ করে কেন তিনি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর একজন গোলরক্ষক। কেবল গোলপোস্ট সামলানোই নয়, প্রতিপক্ষের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণের কাজটিতেও তিনি দারুণ পারদর্শী। নিজের উচ্চতা কাজে লাগিয়ে শট নিতে আসা খেলোয়াড়কে তিনি মানসিক চাপে ফেলেন। রিবাউন্ড কোথায় আসতে পারে তা আগেই অনুমান করার পাশাপাশি সময় ব্যবস্থাপনাতেও তিনি নিখুঁত কৌশল প্রয়োগ করেন। এসবই আধুনিক ফুটবলের বড় তারকাদের খেলার অংশ। কিন্তু তিনি এগুলো এমন নাটকীয়তার সঙ্গে করেন যা সহজেই প্রতিপক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলে।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে তার অসাধারণ ভূমিকার কারণেই শিরোপা জিতেছিল লাতিন আমেরিকার দেশটি। বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচ শুরুর আগেই এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইংলিশ গণমাধ্যমটি নিজেদের খেলোয়াড়দের মনে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করে দিয়েছে। গোলপোস্টের সামনে যে একজন ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছেন, সেই ভাবনাই এখন তাদের ভাবিয়ে তুলবে। তারা যে খলনায়কের ভূমিকাকে একটি কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছে, সেটিই এখন তার জন্য বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিবেদন তার দলের জন্য একটি উপহার এবং তার নিজের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবেই কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন