অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ১১:৩৬ পিএম
অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তান জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন দেশটির অন্যতম সেরা ব্যাটার ও সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম। স্ট্রাইক রেট নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে কিছুদিন দলের বাইরে থাকার পর আসন্ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে তাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন নির্বাচকরা। বাবর আজমের অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে পাকিস্তান দলের ব্যাটিং শক্তিকে অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।
ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের জন্য এই দল ঘোষণা করা হয়েছে। বাবর ছাড়াও দলে ফিরেছেন তরুণ পেসার নাসিম শাহ, যিনি গত এশিয়া কাপে পাওয়া ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিলেন। তবে অধিনায়কত্ব নিয়ে সমালোচনা সত্ত্বেও সালমান আলী আগার ওপরই আস্থা রেখেছেন নির্বাচকরা।
বাবর আজমকে টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। পরিসংখ্যানের দিক থেকে দেখলে, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনিই। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তিনি প্রায় ৪০ গড়ে ৪২২৩ রান করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি সেঞ্চুরি এবং ৩৬টি হাফ-সেঞ্চুরি। এমন একজন ধারাবাহিক পারফর্মারকে দলের বাইরে রাখাটা অনেক সমর্থক ও সাবেক ক্রিকেটারই মেনে নিতে পারছিলেন না। তবে নির্বাচকদের প্রধান আপত্তির জায়গা ছিল বাবরের স্ট্রাইক রেট।
বিশেষ করে ইনিংসের শুরুতে বা পাওয়ার প্লে-তে তার তুলনামূলক ধীরগতির ব্যাটিং দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল বলে মনে করছিলেন তারা। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মারকাটারি ব্যাটিংয়ের চাহিদা বাবর পূরণ করতে পারছেন না—এই যুক্তিতেই তাকে সাময়িকভাবে দলের বাইরে রাখা হয়েছিল। তবে তার অনুপস্থিতিতে দলের ব্যাটিং লাইনআপের নড়বড়ে অবস্থা এবং আসন্ন সিরিজগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচকরা আবারও তার অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখলেন।
দলে ফেরা আরেকজন হলেন পেস সেনসেশন নাসিম শাহ। গত বছর অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের সময় কাঁধের গুরুতর ইনজুরিতে পড়েছিলেন তিনি। সেই চোট তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে দেয়। নাসিমের অনুপস্থিতি পাকিস্তানের পেস বোলিং আক্রমণের ধার অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিল। তার দলে ফেরাটা নিঃসন্দেহে বোলিং ইউনিটকে শক্তিশালী করবে, বিশেষ করে শাহিন শাহ আফ্রিদির সঙ্গে তার জুটি প্রতিপক্ষের জন্য ভীতি সঞ্চারকারী হতে পারে।
এদিকে, অধিনায়ক হিসেবে সালমান আলী আগাকে রেখে দেওয়াটা কিছুটা হলেও বিস্ময়কর। গত এশিয়া কাপে তার নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। বিশেষ করে ফিল্ড প্লেসিং, বোলিং পরিবর্তন এবং চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার অপরিপক্কতা চোখে পড়েছিল। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, হয়তো তাকে সরিয়ে নতুন কাউকে অধিনায়ক করা হতে পারে। কিন্তু নির্বাচকরা আপাতত তার ওপরই আস্থা রাখছেন। আসন্ন সিরিজগুলোতে সালমান আলী আগার নেতৃত্ব তাই বাড়তি পর্যবেক্ষণে থাকবে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে রাওয়ালপিন্ডি এবং লাহোরে। সিরিজের ম্যাচগুলো হবে যথাক্রমে ২৮ অক্টোবর, ৩০ অক্টোবর এবং ১ নভেম্বর। এরপর একই ভেন্যুতে, অর্থাৎ রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরে, অনুষ্ঠিত হবে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি চলবে ১৭ থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সিরিজগুলো পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ ও ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের জন্য ঘোষিত পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দল:
সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, আব্দুল সামাদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, হাসান নেওয়াজ, মোহাম্মদ নাওয়াজ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, মোহাম্মদ সালমান মির্জা, নাসিম শাহ, সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, শাহিন শাহ আফ্রিদি, উসমান খান (উইকেটকিপার), উসমান তারিক।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন