অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ১০:৩০ এএম
ফুটবল বিশ্বে আরও একবার বড় খবর এলো লিওনেল মেসিকে ঘিরে। আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস)-এর ক্লাব ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। নতুন এই চুক্তি অনুযায়ী, তিনি ২০২৮ সাল পর্যন্ত ক্লাবটিতেই থাকছেন, যা মায়ামি এবং সামগ্রিকভাবে আমেরিকান ফুটবলের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি। ক্লাবের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল এবং মেসি যে মায়ামিতে তার নতুন ফুটবলীয় ঠিকানা খুঁজে নিয়েছেন, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।
নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের পর লিওনেল মেসি তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। ক্লাবের বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এখানে থাকতে পেরে এবং এই প্রকল্পটি (ইন্টার মায়ামির) চালিয়ে যেতে পেরে আমি সত্যিই খুশি। মিয়ামি ফ্রিডম পার্কের এই নতুন স্টেডিয়ামে খেলতে পারার স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে।’ মায়ামিতে আসার পর থেকেই তিনি যে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন, সে কথাও উল্লেখ করেন এই কিংবদন্তি।
মেসি যোগ করেন, ‘মায়ামিতে আসার পর থেকে আমি খুব খুশি, তাই এখানে আমার কাজ চালিয়ে যেতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।’ তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে, ইউরোপের পাট চুকিয়ে আটলান্টিকের ওপারে পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি কতটা সন্তুষ্ট এবং ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কতটা আশাবাদী।ইন্টার মায়ামির অন্যতম সহ-মালিক এবং ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবল আইকন ডেভিড বেকহ্যামও মেসির এই সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বসিত। তিনি মনে করেন, মেসির নতুন চুক্তিতে সম্মত হওয়ার এই সিদ্ধান্ত ‘শহর (মায়ামি), ক্লাব এবং খেলার (ফুটবল) প্রতি তার গভীর প্রতিশ্রুতি’ ফুটিয়ে তোলে
বেকহ্যাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘লিও এখনো জিততে চান। তিনি খেলাটিকে অনেক ভালোবাসেন এবং তিনি এই দেশে খেলার মানোন্নয়নের জন্য অনেক কিছু করেছেন, যা পরবর্তী প্রজন্মের তরুণ প্রতিভাদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে।’ ক্লাবের মালিক হিসেবে এমন একজন খেলোয়াড়কে পাওয়া যে কতটা সৌভাগ্যের, তাও উল্লেখ করেন বেকহ্যাম। তিনি বলেন, ‘মালিক হিসাবে এমন একজন খেলোয়াড়কে আমাদের ক্লাবে পাওয়াটা খুব সৌভাগ্যের।’
২০২৩ সালের জুলাই মাসে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ছেড়ে যখন লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন, তখন অনেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু মাঠে নেমেই মেসি প্রমাণ করেন, কেন তিনি সর্বকালের সেরাদের একজন। তার জাদুকরী পারফরম্যান্সে রাতারাতি বদলে যায় মায়ামির ভাগ্য। যোগ দেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি দলটিকে লিগস কাপের শিরোপা জেতাতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন, যা ছিল ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথম কোনো বড় ট্রফি।
শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও মেসির উপস্থিতি এমএলএস এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা এক লাফে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তার প্রতিটি ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয় উন্মুখ অপেক্ষা, টিকিট বিক্রি বেড়ে যায় বহুগুণ এবং জার্সির বিক্রিও ছাড়িয়ে যায় আগের সব রেকর্ড। নতুন এই চুক্তি সেই উন্মাদনাকে আরও দীর্ঘায়িত করবে, যা লিগের সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যিক প্রসারেও সহায়ক হবে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি মানে হলো, মেসি প্রায় ৪১ বছর বয়স পর্যন্ত মায়ামির জার্সি গায়ে মাঠ মাতাবেন, যা তার ফিটনেস এবং খেলার প্রতি ভালোবাসারই প্রমাণ।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন