অক্টোবর ২৯, ২০২৫, ০৯:৩৭ এএম
প্রথম ম্যাচে হারের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি। এই ম্যাচে হারলেই সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যাবে স্বাগতিকদের। তাই লিটন দাসের দলের সামনে জয়ের কোনো বিকল্প নেই।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেও মাঝপথে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লে-তেই ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত ১৪۹ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস, হারতে হয় ১৬ রানে। তানজিম হাসান সাকিব ম্যাচ শেষে যেমনটা বলেছিলেন, ‘আর ব্যাকফুটে যাওয়ার সুযোগ নেই’, সেই কথাই এখন দলের মূল মন্ত্র। সিরিজ বাঁচাতে মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলে মাঠে নামাটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের জন্য।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে বাঁচা-মরার এই লড়াই। গতকাল তীব্র গরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছয় ক্রিকেটার ঐচ্ছিক অনুশীলন করলেও বাংলাদেশ দল পুরো দিন হোটেলেই বিশ্রাম নিয়েছে। এই বিশ্রাম দলকে মানসিকভাবে সতেজ করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স বিবেচনায় দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে কয়েকটি পরিবর্তন আসা প্রায় নিশ্চিত। বিশেষ করে বাজে শট খেলে আউট হওয়া শামীম পাটোয়ারীর বাদ পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। তার জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন জাকের আলী অনিক। এছাড়া টিম ম্যানেজমেন্ট উইকেটের চরিত্র এবং প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনায় একজন বাড়তি স্পিনার খেলাতে পারে। সেক্ষেত্রে অফস্পিনিং অলরাউন্ডার শেখ মাহেদী হাসান একাদশে আসতে পারেন। যদি বাড়তি স্পিনার খেলানো হয়, তবে বাদ পড়তে পারেন কোনো একজন পেসার, সেক্ষেত্রে তাসকিন আহমেদের নাম আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে, ওয়ানডে সিরিজ হারলেও টি-টোয়েন্টিতে দারুণ শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চাইবে। প্রথম ম্যাচে বোলার আকিল হোসেন, জেসন হোল্ডাররা যেমন ভালো করেছেন, তেমনি ব্যাটাররাও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। তাই সফরকারী দলের একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে শাই হোপের দল।
চট্টগ্রামের উইকেট সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক হয়ে থাকে। যদিও প্রথম ম্যাচে বল কিছুটা ধীরে ব্যাটে আসছিল। রাতের ম্যাচে শিশির একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে, যা বোলারদের জন্য কাজটা কঠিন করে তোলে। প্রথম ম্যাচে শেষদিকে শিশিরের কারণে ক্যারিবীয় বোলাররাও সমস্যায় পড়েছিলেন। হাতে উইকেট থাকলে বাংলাদেশ হয়তো শেষদিকের সুবিধাটা নিতে পারত। কিন্তু ৭৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলায় সেই সুযোগ আর হয়নি। আজ সিরিজ রক্ষার ম্যাচে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ব্যাটারদের আবারও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে, যে পরীক্ষায় তারা সাম্প্রতিক সময়ে খুব একটা সফল হতে পারছে না।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন