নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ১০:০৪ এএম
দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় জেঁকে বসেছে শীত। হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে বরাবরই এ অঞ্চলে শীতের প্রকোপ একটু বেশি থাকে।
গত কয়েক দিন ধরে এখানকার তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ওঠানামা করছে এবং সন্ধ্যা থেকে শুরু করে পরদিন সকাল পর্যন্ত বইছে উত্তরীয় হিমেল বাতাস।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে।
একই তাপমাত্রা ভোর ৬টাতেও রেকর্ড করা হয়েছিল এবং এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৯ শতাংশ। তবে এখন পর্যন্ত তাপমাত্রা ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি বলে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছেন।ভোরে প্রকৃতি হালকা কুয়াশার চাদরে মোড়া থাকে।
কুয়াশার সঙ্গে ঝরে পড়া শিশিরে ঠান্ডা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই শীতের আবহ বাড়তে থাকায় জেলায় গরম পোশাকের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। স্থানীয়রা জানান, সাধারণত নভেম্বরের শুরু থেকে শীতের পরশ বাড়তে থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকেই শীতের আগমন দেখা যাচ্ছে।
এই শীতকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন ধানে কৃষকের ঘরে ঘরে নবান্নের আনন্দ। গোলার নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধের পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদে শুরু হয়েছে পিঠা-পুলির উৎসব। জেলা শহরসহ গ্রামীণ জনপদের হাট-বাজারগুলোতে বিকেল হতেই দোকানিরা হরেক রকমের গরম পিঠার পসরা সাজিয়ে বসছেন এবং ভোজন রসিকরা সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন।
অন্যদিকে, কনকনে শীতের মাঝেও জীবিকার টানে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষজন সকাল থেকে কাজে বেরিয়েছেন। চা বাগান, খনি এলাকা ও নদীঘাটে শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ভ্যানচালক, দিনমজুর ও রিকশাচালকরা জানিয়েছেন, রোদের আলো পাওয়ায় সকালবেলার কাজ কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক হচ্ছে। তবে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বাড়ছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সংখ্যা গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে এবং বিশেষ করে নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও সর্দি-কাশির রোগী বেশি আসছেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন