নভেম্বর ৮, ২০২৫, ০৬:৪৭ পিএম
প্রতিবছর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং গত দু'বছর ধরে এই সময়ে দাম শতকের ঘর ছুঁয়ে যাচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ব্যবসায়ী ও কৃষকরা জানান, বর্তমানে বাজারে যে পেঁয়াজ রয়েছে তার 'হালি পেঁয়াজ' মৌসুম শেষের পথে, অন্যদিকে নতুন জাতের 'মুড়িকাটা পেঁয়াজ' বাজারে আসতে আরও দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগবে, যার কারণে সরবরাহে একটি সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়।
একইসঙ্গে এই সময়ে আমদানিও বন্ধ থাকায় বাজারে পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়ে বলে তারা উল্লেখ করেন। পাবনা সুজানগরের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ চলছে এবং কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন; তবে বীজতলা তৈরির টাকার জোগান দিতে এবং মৌসুম শেষে লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক ইতোমধ্যে তাদের মজুদ করা পেঁয়াজের একটি বড় অংশ আগেভাগেই বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানা যায়, যার ফলে কৃষকের ঘরে এখন পেঁয়াজ নেই।
রাজবাড়ী আর ফরিদপুরেও একই চিত্র দেখা গেছে এবং কয়েকদিনের ব্যবধানে ৭০ টাকা দরের পেঁয়াজ শতকের ঘর পার করেছে বলে পাইকাররা জানান। রাজধানী ঢাকার আড়তগুলোতে সরবরাহ ঘাটতি না থাকলেও ঊর্ধ্বগতিতে লাগাম টানা যাচ্ছে না বলে আড়তদাররা জানান এবং তাদের মতে, বাজারে নতুন জাতের পেঁয়াজ না উঠলে এই দর কমার সম্ভাবনা নেই।
তবে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন যে, প্রতিবছরই এই সময়টায় এক শ্রেণির সিন্ডিকেট সুযোগ নিয়ে থাকে এবং আমদানিকারকরা এতে রসদ জুগিয়ে থাকে, যা প্রশাসনের ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছু নয়; কিন্তু বাজার তদারকির দায়িত্বে থাকা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর এই বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি। দেশে বছরে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৫ থেকে ২৭ লাখ টন হলেও দেশীয় উৎপাদন দিয়ে প্রায় ২১ লাখ টন পূরণ করা হয়।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন